কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আত্মগোপনে থেকে নিজেকে অপহৃত দাবি করে পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত শান্ত মিয়া (২৪) নামের এক তরুণকে উলিপুরের তেঁতুলতলা এলাকা থেকে দুই বন্ধুসহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শান্ত ইস্পাহানি কোম্পানি লিমিটেডের চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার পণ্য সরবরাহকারী (ডেলিভারি ম্যান) হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে পণ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে বের হন শান্ত। কাজ শেষে রাত ১১টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলেও তিনি ফেরেননি। স্বজনেরা যোগাযোগ করতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। পরে রাত ৩টার দিকে শান্ত তার মায়ের মোবাইলে কল দিয়ে জানান, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করেছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করছে।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার শান্তর মা সেলিনা বেগম চিলমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে চিলমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফুল কুমার ও এসআই বাবুল মিয়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাত পৌনে ১০টার দিকে উলিপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত ও তার দুই বন্ধুকে উদ্ধার করেন। ওই দুই বন্ধু হলেন- উলিপুর উপজেলার রামদাস ধনীরাম এলাকার মো. বাবর আলীর ছেলে আবু সায়হাম (২৭) ও মৃত বাদশা আলমগীরের ছেলে আকাশ মিয়া (২৩)।
চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার গতকাল শুক্রবার রাতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত স্বীকার করেন, কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করে ফেলেন। বিষয়টি গোপন রাখতে ডিলারের কাছে দাবি করেছিলেন, টাকাগুলো দোকানে বাকি রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর কোম্পানির ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে বকেয়া যাচাইয়ের কথা ছিল। ডিলারের কাছে সত্যতা প্রকাশ পাওয়ার ভয়েই দুই বন্ধুর পরামর্শে অপহরণের এ নাটক সাজান।
শান্তর মা সেলিনা বেগম বলেন, আমার ছেলে ভুল করেছে। কিছু বখাটে ছেলের সঙ্গে মিশে এমন একটি বিপদ ডেকে এনেছে। ছেলেকে নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন তাকে ফিরে পেয়েছি, এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি। ভবিষ্যতে যেন সে আর এমন ভুল না করে, সেটাই চাই।