কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। এতে পর্যটকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে সমকাল
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৫ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৬
কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। ঝিনুক আকৃতির ছাদ। ওপরে স্টিলের কাঠামোতে সমুদ্রের ঢেউয়ের নকশা। সাগরঘেঁষা কক্সবাজার বিমানবন্দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নকশা করা হয়েছে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালের। এই টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে যাত্রী ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, টার্মিনালে ফ্লাইটপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০, কখনও সাড়ে ৫০০ যাত্রীও হয়ে যেত। ফলে ধারণক্ষমতার বাইরে চাপ তৈরি হতো। নতুন টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরে হবে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটিতে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং দুটি আধুনিক ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সাতটি স্ক্যানার, মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা এবং হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের আলাদা সুবিধা। যাত্রী চলাচলের জন্য রয়েছে চারটি এসকেলেটর ও ছয়টি লিফট। পাশাপাশি রয়েছে বোর্ডিং ব্রিজ ও আধুনিক লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা। এর অনুমোদিত ব্যয় প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
বেবিচক সূত্র জানায়, নতুন টার্মিনালে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশি বিভিন্ন সরঞ্জামের টেস্টিং ও কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। নতুন টার্মিনাল নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরাও। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশন) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, নতুন টার্মিনালে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এটি শুধু ইউএস-বাংলা নয়, সব এয়ারলাইন্সের জন্যই ইতিবাচক। এর ফলে যাত্রীরা আগের তুলনায় আরও ভালো সেবা ও সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরও আধুনিকায়ন করা হলে তা এয়ারলাইন্স ও যাত্রী উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনবে। ঢাকা থেকে আসা যাত্রী রাকিব হাসান বলেন, ‘আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনালে ভিড়ের কারণে অনেক সময় দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যেত না। নতুন টার্মিনালটি অনেক বড় ও সুন্দর। এখানে যাত্রীদের চলাচল ও বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এতে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে হচ্ছে।’ আরেক যাত্রী নাজমা আক্তার বলেন, ‘নতুন টার্মিনালে ঢুকেই আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তি অনুভব করেছি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে কক্সবাজারের যাত্রীদের জন্য এটি আরও বড় সুবিধা হবে।’
অক্টোবরের শেষ দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক। কক্সবাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত এই পর্যটন এলাকায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা এখনও খুব কম। পুরোনো বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোট হওয়ায় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের উড়োজাহাজ কক্সবাজারে চলাচল করতে পারত না। ফলে বিদেশি পর্যটকদের ঢাকা হয়ে কক্সবাজার আসতে হতো। এই পরিস্থিতি বদলাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।