সব প্রস্তুতি থাকার পরও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে দেশে আনা যায়নি। ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি আসার কথা ছিল। আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটার পর নতুন সূচিতে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আবার ইউরেনিয়াম আনা শুরু হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার পর নতুন সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমও গতকাল জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কয়েকটি ফ্লাইটে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এর আগে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের ছাড়পত্র না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ফ্লাইটটি আসতে পারেনি। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন করে চালান পাঠানোর সময়সূচি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটে এক বছর পর রিফুয়েলিংয়ের জন্য ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেমব্লি দুটি ফ্লাইটে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর একটি ২৪ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১ অক্টোবর আসার কথা ছিল। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান আসবে।
একই সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথমবারের জ্বালানি আনার জন্য অক্টোবর থেকে কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালনার সূচি রয়েছে। এর আগে পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল। রোসাটম এখন জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী কয়েকটি ফ্লাইটে পুরো জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম পরিবহনের নির্ধারিত রুটে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারতের আকাশসীমা পড়ে। চালান গ্রহণ ও রূপপুরে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে রোসাটম থেকে জানানো হয়, রুটের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়নি। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটটি স্থগিত হয়।