মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী। ছবি- এক্স

ক্রীড়াজগতে কোনো কোনো হার অবধারিতই থাকে। র‍্যাঙ্কিংয়ের ৪৫ ধাপের ব্যবধানটা সামনে এনে কোচ থমাস ডুলি যখন বাস্তবতার চাদরে সমর্থকদের প্রত্যাশাকে মুড়িয়ে দিচ্ছিলেন, তখন মালয়েশিয়ার কাছে এই ৩-০ গোলের হার মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না। শুধু এক চিলতে লড়াইয়ের আশায় ছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু জাকার্তায় ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ যা উপহার দিল, তা হার নয়– এক চরম বিভ্রান্তি!

পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে মাত্র দুটি শট, তাও আবার তার একটি সেই ডিফেন্স থেকে উঠে আসা হামজা চৌধুরীর চেষ্টা। মাত্র ৩৯ শতাংশ বল পজিশন, একটি মাত্র কর্নার কিক– আর যাই হোক, একে আন্তর্জাতিক মানের লড়াই বলা চলে না। ফাহমিদুল থেকে ফারহান, শমিত থেকে রাকিব– প্রত্যেকেই এত বেশি মিস পাস করেছেন যে ম্যাচের শুরুতেই দিগ্‌ভ্রান্তের মতো দেখা গেছে পুরো দলকে। সেই সঙ্গে ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুর দৃষ্টিকটু ভুলের খেসারতে তিন-তিনটি গোল হজম। কোচ ডুলির অদ্ভুত রণকৌশলেও ছিল অনাস্থার ছাপ।

ফাহমিদুলকে আচমকা স্ট্রাইকার পজিশনে ঠেলে দিয়ে তিনি রাকিবের ওপর আক্রমণের যে সব ভরসা রেখেছিলেন, তা কাজে লাগেনি। আসলে কোনো কিছুতেই এদিন ন্যূনতম সুন্দর ফুটবলের ছাপ ছিল না বাংলাদেশ দলের মধ্যে। আসিয়ান কাপের অভিষেক মঞ্চে ইতিহাস গড়ার সুযোগ তো দূর, বাংলাদেশ দল সমর্থকদের মনে উপহার দিয়ে গেল একরাশ দীর্ঘশ্বাস আর চরম এক হতাশা। তবে মালয়েশিয়ার কাছে এই শিক্ষাটা নেওয়ার পর হাতে দুদিন সময় আছে পরের ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামার।

এদিন ম্যাচের শুরুতে ডুলির ফরমেশনটা ছিল অনেকটা এমন– ৪-২-৩-১। সেখানে শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে নিজেদের ডি বক্সে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকেন সাদ উদ্দিন, তারিক কাজিরা। পায়ে বল এলেই এলোমেলোভাবে লম্বা শট খেলতে থাকেন তারা। যার খেসারত দিতে হয় ম্যাচের ১৮ মিনিটে। ডিফেন্ডার শাকিল তপু এক ভুল পাসে প্রতিপক্ষের পায়ে বল পাঠিয়ে দেন। পরে নিজেদের অর্ধ থেকে নেওয়া লাইনের উঁচু করে বাড়ানো লং বল বাংলাদেশের রক্ষণভাগের পেছনে চলে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে নেন আরিফ আইমান। সেখানে থাকা ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুও ব্যর্থ হন শটের পথ আটকাতে। নিচু কোনাকুনি শটে শ্রাবণকে পরাস্ত করে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে নেন তাদের এই তারকা ফরোয়ার্ড। তবে তপু শিশুতোষ ভুলটা করেন ম্যাচের ৩৮ মিনিটে। নিজেদের বক্সের মধ্যেই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় স্টুয়ার্ট উইলকিনের সামনে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসেন। সেই সুযোগে বল কেড়ে নিয়ে তা মালয়েশিয়ান সতীর্থ আরিফের কাছে পাস বাড়ান উইলকিন। গোল করতে ভুল করেননি তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে ফাহমিদুল ও ফারহানকে উঠিয়ে নামানো হয় শাহরিয়ার ইমন ও শুকি ইতোফুসাকে। তাতে আক্রমণে কিছুটা গতি আসে। তবে রাইট উইংয়ে খেলতে থাকা রাকিব বলের ওপর নিয়ন্ত্রণই আনতে পারেননি। দু-একটি পাস যা তাঁর কাছে এসেছে, তা রিসিভ করে প্রতিপক্ষের ডিবক্সে ঢুকতে পারেননি তিনি। উল্টো ডিফেন্ডার সেই তপুর ভুলে তৃতীয় গোলটিও হজম করতে হয় ম্যাচের ৫২ মিনিটে। মালয়েশিয়ার ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় বার্গসন তপুর সামনে থেকেই টার্ন নিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন। বল কেড়ে নেওয়ার বদলে হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তপু।