জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা না থাকলেও বিদেশি ফিল্ডিং কোচ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত এটি। তবে কবে থেকে বিদেশি ফিল্ডিং কোচ দায়িত্ব নেবেন এ ব্যাপারে জানা যায়নি। মূলত জাতীয় দলের ফিল্ডিংয়ের উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এ সিদ্ধান্ত বলে জানান বিসিবির একজন পরিচালক।

বর্তমানে জাতীয় দলে ভারপ্রাপ্ত ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পালন করছেন আশিক মজুমদার। দেশের ক্রিকেটের নীতিনির্ধারকরা আশিকের পারফরম্যান্স নিয়ে আপত্তি না জানালেও বিদেশি কোচের প্রয়োজন দেখেন। টেকনিক্যাল কমিটি সেভাবে বিসিবি সভাপতিকে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পেস বোলিং কনসালট্যান্ট বা পরামর্শক হিসেবে অ্যালান ডোনাল্ডকে পাওয়ার ব্যাপারেও আগ্রহ আছে বিসিবির।

পেস বোলিং কোচ হিসেবে তালহা জুবায়েরকে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়ার মৌখিক আলোচনা হয়েছে। তবে মেন্টর হিসেবে ডোনাল্ডকে খণ্ডকালীন নিয়োগের ব্যাপারে আলোচনা আছে বলে জানান একজন কর্মকর্তা। বিসিবি সভাপতি টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে এ নিয়ে মতবিনিময় করেছেন বলে জানা গেছে। হাসান মাহমুদদের পছন্দের কোচ ডোনাল্ড। তাঁকে বোলিং কোচ হিসেবে পেলে মনস্তাত্ত্বিকভাবে লাভবান হবেন মুস্তাফিজুর রহমানরা। বিশেষ করে স্কিলে উন্নতির পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং করার কৌশল জানতে পারবেন তারা।

ডোনাল্ডের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তামিমের। তিনি ওয়ানডে অধিনায়ক থাকার সময় পেস বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ডোনাল্ড। স্থায়ীভাবে না হলেও জাতীয় দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পেস বোলারদের মেন্টর করার চিন্তাভাবনা বোর্ড কর্তাদের। বিসিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ডোনাল্ডের সঙ্গে বোর্ড সভাপতি কথা বলবেন শুনেছি। তিনি অনেক বড় মাপের একজন পেস বোলার ছিলেন। জাতীয় দলে মেন্টর হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। তিনি থাকলে ভালো হবে, দেশি পেস বোলিং কোচরাও শিখতে পারবেন।’

ডোনাল্ডকে ২০২২ সালে নিয়োগ দেওয়া হয় দুই বছর মেয়াদে। ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত পেস বোলারদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সাবেক প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর চাকরি ছাড়েন তিনি। বিসিবির চাকরি ছেড়ে গেলেও বাংলাদেশের বোলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে ডোনাল্ডের। তবে ডোনাল্ডকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে বর্তমানে বিদেশি রয়েছেন দুজন– প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও স্পিন কোচ মুস্তাক আহমেদ। সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে এইচপির প্রধান কোচ করা হলেও বিকল্প নেওয়া হয়নি। ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল সহকারী কোচের ভূমিকা পালন করছেন অলিখিতভাবে। প্রধান কোচের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তিনি। ট্রেনার ইফতেখার ইফতি, ভিডিও অ্যানালিস্ট শাওন জাহান, ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম। দুই বছর আগেও ট্রেনার, ভিডিও অ্যানালিস্ট, ফিল্ডিং, ব্যাটিং, পেস বোলিং কোচ ছিলেন বিদেশি।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]