যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পেয়েছেন তিন দেশ সফরের আমন্ত্রণ। আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তিনি বাংলা ভাষায় দেশের ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন।
এদিকে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চ পর্যায় কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে গাম্বিয়া ও বাংলাদেশ যৌথ আয়োজনে বুধবার সকালে ‘রোহিঙ্গা সংকট’ নিয়ে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, মালয়েশিয়াসহ ৮টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সহমর্মিতা থেকে সংকটের মূল কারণ ও তার সমাধান খোঁজার পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার সময় এসেছে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটানোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রেক্ষাপটে আমি পাঁচটি ক্ষেত্রে কিছু জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব রাখতে চাই। প্রস্তাবগুলো হলো: ১. আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, যা প্রত্যাবাসনের অনুকূল।
২. রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান।
৩. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে, আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করতে হবে। তাদের উদার আতিথেয়তার কারণে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।