রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি আয়োজনক্যারিয়ার যখন ব্যারিয়ারলেখা: মনোজিৎ কুমার রায়প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬: ৫০ অলংকরণ: মাসুক হেলালবাংলাদেশের কর্মজীবী মানুষের একটি সাধারণ প্রবণতা হলো—নিজের অবস্থানকে ছোট করে দেখা আর পাশের মানুষটির অবস্থানকে অনেক উঁচুতে তুলে ধরা। নিজের জীবনের সীমাবদ্ধতাগুলো যতটা চোখে পড়ে, অন্যের জীবনের সংগ্রামগুলো ততটাই আড়ালে থেকে যায়।

একদিন চায়ের দোকানে বসে আছি। সঙ্গে কয়েকজন বন্ধু, সিনিয়র ও জুনিয়র। আলোচনার বিষয়—কে কেমন আছে, কার জীবন কতটা ভালো!

ব্যবসায়ী বন্ধু: তোরা চাকরি করিস, তোদের জীবনই ভালো। ব্যবসায় কত ঝুঁকি, কত অনিশ্চয়তা! মন চায় সব বাদ দিয়ে চাকরি শুরু করি। তোদের সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা অফিস, মাস শেষে বেতন—বেশ শান্তি!

বিসিএস ক্যাডার বন্ধু: কী যে বলেন ভাই! সরকারি চাকরি করি, কিন্তু মন খুলে সব বলা যায় না, ইচ্ছেমতো লেখা যায় না, ঘোরাঘুরিও সব সময় সম্ভব হয় না। চারপাশে কত বিধিনিষেধ! আপনারা কত স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ান, ফেসবুকে ছবি দেন। আমার তো মনে হয়, আপনারাই ভালো আছেন!

ব্যাংকার বন্ধু: ব্যাংকে কোনো শান্তি নেই রে! সকালে ঢুকি, বের হতে হতে সন্ধ্যা। সারা দিন গ্রাহকদের নানা সমস্যা সামলাতে হয়, লেনদেনের হিসাব মেলাতে হয়। তোদের জীবনই ভালো। মন চায় বিদেশ চলে যাই!

ফার্মাসিউটিক্যালসের বন্ধু: আমাদের অফিসে ঢোকার সময় আছে, কিন্তু কখন বের হব, তার নিশ্চয়তা সব সময় নেই। অডিট এলে দিন-রাত এক হয়ে যায়। মানুষের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে কাজ করি। করোনা, হরতাল, ঝড়-বৃষ্টি—সবকিছুর মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। কী আর বলব! মাঝে মাঝে মন চায় বিদেশ চলে যাই।