আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ছোটখাটো শারীরিক অসুস্থতা বা পরিবর্তনকে আমরা খুব স্বাভাবিকভাবে এড়িয়ে চলি। অনেক সময় ভাবি সাধারণ ক্লান্তি, জ্বর বা সামান্য ব্যথায় চিন্তার কিছু নেই। অথচ অবহেলা করা এই ছোট উপসর্গগুলো অনেক সময় শরীরে বাসা বাঁধা ভয়ংকর কোনো রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ক্যান্সার একটি অত্যন্ত জটিল ও ভয়ংকর রোগ হলেও যদি এটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, তবে সঠিক চিকিৎসায় রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। রোগটি যখন অনেক দেরিতে ধরা পড়ে, তখন তা শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে ওঠে।
তাই নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সামান্য পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে একটি বিষয় শুরুতে স্পষ্ট করে রাখা প্রয়োজন, শরীরে এই লক্ষণগুলোর উপস্থিতি মানে যে নিশ্চিতভাবে ক্যান্সার, বিষয়টি এমন নয়। অনেক সাধারণ ইনফেকশন, পুষ্টির অভাব বা অন্য কোনো মামুলি শারীরিক জটিলতার কারণে এই উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে। তবে লক্ষণগুলো যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে, তবে কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। নিচে ক্যান্সারের ১০টি প্রধান সতর্কবার্তা আলোচনা করা হলো, যেগুলোর দেখা মিললে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
১. কারণ ছাড়া দ্রুত ওজন কমে যাওয়া lকোনো ধরনের ডায়েট বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া হঠাৎ করে দ্রুত ওজন কমতে শুরু করা ক্যান্সারের একটি অন্যতম প্রধান লক্ষণ। l যদি কোনো কারণ ছাড়া ৫ কেজি বা তার বেশি ওজন কমে যায়, তবে তা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। l অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী, খাদ্যনালি বা ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটি বেশি দেখা যায়।
২. দীর্ঘস্থায়ী জ্বর lক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি বা বারবার জ্বর আসার প্রবণতা দেখা যায়। l যখন ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া শুরু করে, তখন এই উপসর্গটি বেশি প্রকাশ পায়। l বিশেষ করে লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমার মতো ক্যান্সারের ক্ষেত্রে জ্বর একটি প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।
৩. চরম ক্লান্তি ও অবসাদ পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা ঘুমানোর পরও যদি শরীর থেকে চরম ক্লান্তি বা দুর্বলতা দূর না হয়, তবে তা উদ্বেগের বিষয়। l লিউকেমিয়ার মতো কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শুরু থেকে অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। l মলাশয় বা পাকস্থলীর ক্যান্সারের কারণে রক্তপাত হলে তার ফলে শরীরে রক্তশূন্যতা ও তীব্র ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।
৪. ত্বকের দৃশ্যমান পরিবর্তন শুধু ত্বকের ক্যান্সারই নয়, শরীরের ভেতরের অন্যান্য ক্যান্সারও ত্বকে নানা পরিবর্তন আনতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে: lত্বক অস্বাভাবিকভাবে কালো হয়ে যাওয়া। lত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া। lত্বক অতিরিক্ত লাল হওয়া, চুলকানি বা মাত্রাতিরিক্ত পশম বা চুলের বৃদ্ধি।