নাটোরে সোনালী ব্যাংক পিএলসির কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শাখায় বিধিবহির্ভূতভাবে ভাউচারবিহীন লেনদেনের মাধ্যমে ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ১০৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভুয়া ঋণপত্র তৈরি ও অনিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানোর অপরাধে আরও তিন প্রিন্সিপাল অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক দুই কর্মকর্তা নওগাঁ প্রিন্সিপাল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমার এবং নওগাঁ টিটিডিসি শাখার ব্যবস্থাপক বিপুল কুমার পালের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশের সকল ইমিগ্রেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার (ইনচার্জ) শওকত জামান স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে স্ব স্ব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নাটোর শহরের বাসস্ট্যান্ড শাখা, স্টেশন বাজার শাখা, গুরুদাসপুর এবং চাঁচকৈড় শাখায় অভ্যন্তরীণ বিশেষ অডিট পরিচালনা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অডিটে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এতে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমার জালিয়াতির মাধ্যমে ৯২ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯ টাকা এবং ওই শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার বিপুল কুমার পাল ৩৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৩৬ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এ ছাড়া নাটোর স্টেশন বাজার শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক (বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার) এএইচএম রোকনুজ্জামান ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, গুরুদাসপুর শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক (বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার) মনিরুজ্জামান ৭৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং চাঁচকৈড় শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক (বর্তমানে বড়াইগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার) হাফিজুর রহমান ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ভুয়া ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখিয়ে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন। মূলত জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নিজেদের ‘সেরা শাখা ব্যবস্থাপক’ হিসেবে জাহির করতেই তারা এমন অনিয়ম পরিচালনা করেন।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমারকে পাওয়া যায়নি। অন্য অভিযুক্ত বিপুল কুমার পাল জানান, বরখাস্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন; এখনও কোনো অফিসিয়াল চিঠি হাতে পাননি। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কোনো অনিয়মে তিনি জড়িত নন।