সময় বদলেছে, বদলেছে গ্রামের জীবনযাপন। হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার অনেক পুরোনো খেলাধুলা। তবে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এখনো টিকে আছে লাঠিখেলার ঐতিহ্য। প্রায় ৬০ বছর ধরে সলেমানপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে আয়োজন করে আসছেন এই খেলার। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও লাঠি, ঢোল আর কাঁসির তালে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন । পুরোনো এই ঐতিহ্য ধরে রেখে আগামী প্রজন্মের কাছেও খেলাটি পৌঁছে দিতে চান আয়োজকরা।

লাঠিয়াল লোকমান হোসেনের বয়স ৫৫ বছর। ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদাদের এই খেলা দেখে বড় হয়েছেন তিনি। এখন পুরোনো অনেক খেলোয়াড় নেই। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে ঐতিহ্য ধরে রাখতে তিনিও নিয়মিত অংশ নেন লাঠিখেলায়।

লোকমান হোসেন বলেন, আমার বয়স এখন ৫৫ বছর। ছোটবেলা থেকে বাপ-দাদাদের এই খেলা খেলতে দেখে আসছি। এখন পুরোনো অনেক খেলোয়াড় মারা গেছেন। আমরা তাদের উত্তরসূরি। বাপ-দাদাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতেই আমরা খেলাটি করে আসছি। আমাদের আশা, সামনের দিনে আমাদের ছেলেরাও এই খেলা অব্যাহত রাখবে।

তিনি জানান, প্রতিবছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কোটচাঁদপুরের সলেমানপুর উত্তরপাড়া থেকে লাঠিখেলা বের হয়। তিন দিন ধরে চলে এই আয়োজন। খেলায় থাকে বিভিন্ন ধরনের লাঠি, সঙ্গে থাকে ঢোল ও কাঁসি। উত্তরপাড়ার খোকা মণ্ডল ও রমজান দফাদার এই খেলার নেতৃত্ব দেন।

এবারের আয়োজনে ২৫ থেকে ৩০ জন অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইদ্রিস দফাদার, হান্নান দফাদার, মইদুল মুন্সি, শহিদুল মুন্সি ও লিয়াকত আলী।

খেলা শেষে আয়োজন করা হয় ছোট পরিসরের অনুষ্ঠান। এরপর সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করে শেষ হয় আয়োজন। লাঠিখেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।