রাজধানীর কুড়িলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে এক যুবক একজনকে ধরে ফেলেন আরেক যুবক। পরে মিছিলে অংশ নেওয়া যুবককে ধরা নিয়ে আশপাশের মানুষ ওই যুবকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে যায়। এতে মিছিলে অংশ নেওয়া যুবককে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ওই যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে এই মিছিল হয় বলে সমকালকে জানিয়েছে পুলিশ।
ভাটারা থানা পুলিশ জানায়, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী মিছিল করে। অল্প সময়ের মধ্যে মিছিলটি করে তারা দৌড়ে চলে যায়। এসময় স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতা মিছিলে অংশ নেওয়া এক যুবককে ধরে ফেলে। পরে সেখানে আশপাশে থাকা লোকজনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পরে এবং আটক যুবককে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ৩০-৪০ জন কুড়িলের সড়ক ধরে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ইত্যাদি স্লোগানদিতে শোনা যায়। মিছিলটি কিছু দূর গিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু মিছিল থেকে কিশোর বয়সী একজনকে এক যুবক ধরে ফেলেন। ওই যুবক নিজেকে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। এর মধ্যে আশপাশ থেকে কয়েকজন এসে ওই কিশোরকে ছেড়ে দিতে বলেন।
আটক কিশোরের শার্টের কলার চেপে ধরা যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘তোরে আনছে কে?’ কিশোর উত্তর দেয়, ‘এক বড় ভাই আনছে।’ তখন ওই যুবক জানতে চায়, ‘এটা কাদের মিছিল ছিল?’ ওই কিশোর বলে, ছাত্রলীগের মিছিল। সঙ্গে দাবি করে, এক বড় ভাই তাকে মিছিলে আসার বিনিময়ে আড়াইশ টাকা দিতে চেয়েছে।
আটক কিশোরের সঙ্গে ওই যুবকের কথা হচ্ছিল একটি ফুটওভারব্রিজের নিচে। এর মধ্যে সেখানে আরও কিছু মানুষ জড়ো হন, যাদের কেউ কেউ ওই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছিলেন। নিজেকে স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘পোলাপাইন মানুষ, ওরে ছাইড়া দেন।…ওরে ধইরা লাভ আছে?’
তাকে ছেড়ে দেওয়া না দেওয়া নিয়ে এক পর্যায়ে ওই যুবকের সঙ্গে ‘স্থানীয় বাসিন্দার’ বাগ্বিতণ্ডা হয়। দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলার সময় আরও কয়েকজন ওই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কিশোর ছাড় পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা যায়।