হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচলের নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে উপসাগরীয় টার্মিনাল থেকে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে সৌদি আরব। একদিনেই দেশটির রাস তানুরা ও জুয়াইমাহ টার্মিনালে ছয়টি সুপারট্যাঙ্কারে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তোলা হয়েছে। শিপিং-ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এই তৎপরতা যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় সৌদি আরবের প্রধান উপসাগরীয় রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে সর্বোচ্চ ব্যস্ততার একটি।

এই তৎপরতা থেকে ইঙ্গিত মিলছে, লোহিত সাগরমুখী সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদি আরামকো উপসাগরীয় অঞ্চলের মাধ্যমে তেল রপ্তানির সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে। পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ আবার পারস্য উপসাগরমুখী হয়েছে।

মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, রোববার রাস তানুরা-জুয়াইমাহ রপ্তানি কেন্দ্রে ছয়টি বড় ক্রুড ক্যারিয়ার বা ভিএলসিসিতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তোলা হয়েছে। সাধারণত একটি ভিএলসিসিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা যায়। ট্যাঙ্কারগুলোর মধ্যে চারটি ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খালি বা ‘ব্যালাস্ট’ অবস্থায় উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করে। পরে রাস তানুরার দিকে যায়।

তবে রয়টার্স ট্যাঙ্কারট্র্যাকারস ডটকমের তথ্যের বরাতে কিছুটা ভিন্ন হিসাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, রোববার সৌদি আরামকো উপসাগরীয় অঞ্চলে সাতটি ভিএলসিসিতে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বোঝাই করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের তথ্যের এই পার্থক্য জাহাজ শনাক্তকরণ, তথ্য সংগ্রহের সময়সীমা বা টার্মিনাল শ্রেণিবিন্যাসের ভিন্নতার কারণে হতে পারে। তবে উভয় তথ্যই উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের তেল পরিবহণ কার্যক্রম বড় আকারে বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার আশার মধ্যে ব্যবসায়ীদের ইতিবাচক সাড়ায় তেলের দাম সম্প্রতি কিছুটা কমেছে। বুধবার সকালে অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্যমতে, ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ০.৫৬ ডলার কমে ৮৯.৯৬ ডলারে নেমেছে। ব্রেন্টের দাম ০.২৭ ডলার কমে ৯৮.৯৮ ডলার এবং মুরবানের দাম ১.৩৫ ডলার কমে ১০৮.৭০ ডলারে নেমেছে।

সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাড়ানোর পেছনে অন্যতম কারণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনটি দেশটিকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির সুযোগ দেয়। ড্রোন হামলার কারণে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে আরামকোকে তেলের গন্তব্য পরিবর্তন করে রাস তানুরা ও জুয়াইমাহর মতো উপসাগরীয় টার্মিনালের দিকে সরিয়ে নিতে হয়। এসব টার্মিনাল থেকে তেল রপ্তানির পথ অবশ্য হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল।