এআইয়ের যুগে ফ্রিল্যান্সিং তরুণদের সামনে আয়ের পাশাপাশি দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি পথ খুলে দিয়েছে। এ পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, নিয়মিত শেখা এবং কাজের মান ধরে রাখা। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলে ফ্রিল্যান্সিং হয়ে উঠতে পারে তরুণদের কর্মজীবনের এক সম্ভাবনাময় অংশ। লিখেছেন আলাউদ্দিন আলাদিন

তরুণদের কাছে ফ্রিল্যান্সিং এখন পরিচিত একটি নাম। পড়াশোনা এবং প্রচলিত চাকরির পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কাজ করে আয় করার সম্ভাবনা অনেককে এ পেশার প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, সদ্য স্নাতক এবং প্রযুক্তিতে আগ্রহী তরুণদের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

ফ্রিল্যান্সিং কী এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের বাজার... ফ্রিল্যান্সিং মূলত এমন একটি কাজের পদ্ধতি, যেখানে কোনো ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মী না হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়ে নির্দিষ্ট কাজ করেন। কাজের ধরন অনুযায়ী তিনি এককালীন পারিশ্রমিক পেতে পারেন, আবার ঘণ্টা হিসেবেও আয় করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতেও কাজ করার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এ কাজের অন্যতম আকর্ষণ হলো, স্থানীয় বাজারের বাইরেও আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ। তবে ফ্রিল্যান্সিং মানে সহজে আয় কিংবা অল্প সময়ে সফলতা নয়। এখানে কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, যোগাযোগের ক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ শেষ করার অভ্যাস।

যেসব খাতে বাড়ছে কাজের সুযোগ ফ্রিল্যান্সিংয়ের জগতে কাজের ক্ষেত্র এখন অনেক বিস্তৃত। আগে গ্রাফিক ডিজাইন, ডেটা এন্ট্রি ও ওয়েবসাইট তৈরির কাজ বেশি পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও সম্পাদনা,

এআই ও অটোমেশন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ব্যবসার বিভিন্ন কাজ সহজ করার সুযোগ বাড়ছে। যেমন, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চ্যাটবট তৈরি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমেইল পাঠানো, তথ্য সংগ্রহ এবং এক সফটওয়্যারের সঙ্গে অন্য সফটওয়্যার যুক্ত করা। এ ধরনের কাজের জন্য এআই টুলের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ধারণাও প্রয়োজন। এ ছাড়া ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ডেটা বিশ্লেষণ, অনুবাদ, থ্রিডি ডিজাইন ও সাইবার নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে সব খাতে কাজের চাহিদা বা আয়ের পরিমাণ এক নয়।

এআই কীভাবে বদলে দিচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং? এআইয়ের কারণে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। আগে কোনো কাজ শেষ করতে যেখানে কয়েক ঘণ্টা লাগত, এআই টুল ব্যবহার করে তার কিছু অংশ কম সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে। লেখার খসড়া তৈরি, ছবি সম্পাদনা, কোডের প্রাথমিক নমুনা তৈরি কিংবা তথ্য সাজানোর কাজে এসব টুল সহায়তা করছে। এর ফলে একজন ফ্রিল্যান্সার কম সময়ে বেশি কাজ করতে পারছেন। আবার যেসব কাজ সহজে এআই দিয়ে করা যায়, সেসব ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।