কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্নের জায়গা নেয় বাস্তবতা। ক্লাস, পরীক্ষা, কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, রিপোর্ট, গবেষণা—একটির পর একটি একাডেমিক কাজ। এর সঙ্গে যোগ হয় ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা। কেউ বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ ব্যাংক বা করপোরেট চাকরির কথা ভাবছেন, কেউ গবেষণা বা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শেখার সুযোগ যেমন অনেক, তেমনি চাপও কম নয়।
কিন্তু এত কিছুর মধ্যে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—আমরা কি সত্যিই মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করছি, নাকি শুধু একাডেমিক চাপ সামলে একটি ডিগ্রির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি?
বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতির জায়গা?একজন বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীর সাফল্যকে প্রায়ই সিজিপিএ, পরীক্ষার ফলাফল কিংবা সার্টিফিকেট দিয়ে বিচার করি। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য কি শুধু ভালো ফলাফল?
একজন শিক্ষার্থী হয়তো চার বছরে অসংখ্য পরীক্ষা দিয়েছেন, শত শত পৃষ্ঠা লিখেছেন এবং অনেক কোর্স সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু সে যদি একটি সামাজিক সমস্যা নিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে না পারে, তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে না পারে, গবেষণার মৌলিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে না পারে কিংবা নিজের যুক্তি পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করতে না পারে, তাহলে তার শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কি অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে না?
শিক্ষার মান তাই শুধু কতটুকু পড়ানো হলো, তা দিয়ে মাপা যায় না; বরং শিক্ষার্থী কতটা বুঝল, কীভাবে চিন্তা করতে শিখল এবং সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এই বিষয় নতুন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নের জন্য ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল বা আইকিউএসি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউজিসির বর্তমান হিট প্রকল্পের উদ্যোগে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মান নিশ্চিতকরণব্যবস্থা, সেল্ফ–অ্যাসেসমেন্ট, মনিটরিং এবং লার্নিং আউটকাম উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অর্থাৎ, নীতিগত পর্যায়েও প্রশ্নটি এখন শুধু ‘শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না’ নয়; বরং শিক্ষার ফল কী হচ্ছে—সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।