শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রি নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মীকে তুলে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ইউপিএল জানিয়েছে, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। সংস্থাটি বলেছে, ‘‘আমরা মনে করি, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বাংলাদেশের ইতিহাসের পরিক্রমায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বই। বাংলাদেশ সৃষ্টির ও মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাতের বহু প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট এ গ্রন্থে পাওয়া যায়। ইউপিএল তার প্রতিটি বই দায়িত্ব নিয়েই প্রকাশ করে। এ বইটি কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যথানিয়মে নিষিদ্ধ করলে ইউপিএল যথাযথ আইন অনুসারে কাজ করবে।’’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘কোনো বইকে নিষিদ্ধ করতে হলে একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সবাইকে অবগত করতে হয়, কিছু আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়। এ বইয়ের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই। সরকার বা আদালতের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিলে ইউপিএল সে অনুযায়ী যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

প্রকাশনা সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা তাদের প্রকাশিত সব বইকে ধারণ করে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা প্রায় সব সরকারের আমলেই কোনো না কোনো চাপের সম্মুখীন হয়েছি। সরকার কিংবা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো কোনো বই নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা থেকে ইউপিএল প্রকাশিত একটি বইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছিল। একই আমলে মওদুদ আহমদের গ্রন্থাবলি নিয়ে বহুবার ইউপিএলকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। অধ্যাপক আসিফ নজরুলের গঙ্গাচুক্তিবিষয়ক গ্রন্থটিও পর্যালোচকদের মতামতের ভিত্তিতে অত্যন্ত প্রতিকূল সময়ে আমরা প্রকাশ করেছি।’

প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে সব চাপ উপেক্ষা করেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পেশাদারত্বের এ নীতির কারণে ইউপিএল বহুবার বাণিজ্যিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু কখনোই প্রকাশনার মৌলিক মানদণ্ড থেকে সরে আসেনি। আমাদের প্রকাশিত যেকোনো গ্রন্থ সম্পর্কে এটিই আমাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।’

বিবৃতিতে সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘তবে আমরা প্রকাশক হিসেবে এবং বিশেষত একাডেমিক প্রকাশক হিসেবে মনে করি, কোনো ফৌজদারি অপরাধের উসকানি নেই—এমন বইয়ের প্রকাশনা ও বিপণনে হস্তক্ষেপ করাটা জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির সার্বিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। বিগত আমলেও আদর্শ প্রকাশনীর তিনটি বইকে আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ না করেই বইমেলায় তাদের স্টল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইউপিএল এ পেশাদার অবস্থান থেকেই প্রতিবাদ করেছিল। এখনো ইউপিএলের অবস্থান একই রকম দৃঢ় ও অবিচল থাকবে। আমরা মনে করি, রাষ্ট্র ও সমাজের বিকাশের স্বার্থেই সরকারের ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব হবে মুক্তচিন্তা ও বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার এ পরিসরে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা এবং অনুরূপ হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা।’