দুই বছরে দুটি যুদ্ধের প্রভাব এবং নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা অনেক ইরানির দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়েছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও বাড়তে থাকা আবাসন ব্যয় দীর্ঘমেয়াদি অনেক পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলেছে।

রাজনৈতিক হতাশা ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিধিনিষেধের কারণে অনেক সচেতন নাগরিক এখন ভালো ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেন না। তারা বরং ভাবছেন, ভবিষ্যতের জন্য কোনো পরিকল্পনা করা আদৌ সম্ভব কি না।

সম্প্রতি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তেহরানের ভেলায়াত পার্কে জড়ো হয়েছিল কয়েক’শ মানুষ। দৌড়ের পোশাকে অনেক নারী আয়োজকদের দেওয়া স্পোর্টস হেডকভার পরেছিলেন। কয়েকজন মাথা না ঢেকেই দৌড়ান। সেই ভিডিও দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এই ঘোষণার আগে অংশগ্রহণকারীদের কাছে প্রতিযোগিতাটি আনন্দদায়ক একটি মুহূর্ত ছিল। মনোবিজ্ঞানী ফাহিমেহ বলেন, সেদিনের পরিবেশে তিনি বিরল এক ধরনের প্রাণশক্তি, আশা ও জীবনের অনুভূতি পেয়েছিলেন।

আশা বলতে কী বোঝেন, তা নিজেই ব্যাখ্যা করেন ফাহিমেহ। আগামীকাল সবকিছু ভালো হয়ে যাবে- এমন বিশ্বাস করাকে আশা মানতে তিনি রাজি নন। বরং আজই কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলাকে ‘আশা’ মনে করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরানিদের মাঝে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা না দেখলে ফাহিমেহের ওই সিদ্ধান্তের বিষয়টি বোঝা কঠিন।

আশার পরিবর্তিত রূপ তেহরানে যেদিন দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল সেদিনই আরেকটি স্থানে বড় সমাবেশ হয়। ‘জান-ফাদা’ নামের ওই কর্মসূচিতে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবক ও সরকার সমর্থকরা অংশ নেন।