বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান পুঁথিগবেষক, পুঁথি সংগ্রহ ও সাহিত্যের ঐতিহ্য অন্বেষণকারী অন্যতম ব্যক্তিত্ব মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। তাঁর ৭৩তম প্রয়াণ দিবস ছিল গত ৩০ সেপ্টেম্বর। এ উপলক্ষে সাহিত্যবিশারদের সমাধিস্থলে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে পটিয়া বন্ধুসভা।
পুষ্পমালা অর্পণের পর আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের নিজ বাড়ি পটিয়া সুচক্রদণ্ডী ‘সাহিত্যবিশারদ ভবনে’ বন্ধুদের আলোচনা সভা হয়। উপস্থিত ছিলেন আবদুল করিমের পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ অনেকটা নিভৃতচারী ছিলেন। তাঁর পুঁথি সংগ্রহের জীবনে নানা জায়গায় তিরস্কারের মুখোমুখিও হয়েছে। কিন্তু কখনো পিছপা হননি।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও প্রথম আলো পটিয়া প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক, পটিয়া বন্ধুসভার সভাপতি আইরিন সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক রিজুয়ান, বন্ধু রাশেদুল্লাহ, আহনাফ হাসনাইন, আব্দুল্লাহ মুহী ও আবদুল হাসনাতসহ অনেকে।
আবদুল করিম আমৃত্যু নিরলসভাবে পুঁথি সংগ্রহ করেছেন। মধ্যযুগীয় মুসলিম সাহিত্যিকদের কর্ম আগ্রহের বিষয় ছিল। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির অধিকাংশই ছিল মুসলিম কবিদের রচিত। এসব পুঁথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু কবিদের পুঁথিগুলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে রক্ষিত আছে। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯২০-২১ সালে দুই খণ্ডে তাঁর লেখা বাংলা পুঁথির তালিকা ‘বাঙালা প্রাচীন পুঁথির বিবরণ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুঁথির তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ‘পুঁথি পরিচিতি’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১১ অক্টোবর ১৮৭১ - ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩)প্রতিকৃতি: মাসুক হেলালআবদুল করিম ১১টি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর ‘ইসলামাবাদ’ নামে তাঁর লেখা বই রয়েছে। পূর্বে অজ্ঞাত ছিলেন, এমন প্রায় ১০০ জন মুসলিম কবিকে তিনি পরিচিত করেন। এ ছাড়া তিনি ও মুহম্মদ এনামুল হক যৌথভাবে আরাকান রাজসভায় ‘বাঙ্গালা সাহিত্য’ শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্পাদিত পুঁথিসমূহের মধ্যে ‘জ্ঞানসাগর’, ‘গোরক্ষ বিজয়’, ‘মৃগলব্ধ’, ‘সারদা মুকুল’ অন্যতম। তিনি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ পুঁথির সম্পাদনা করেন।
সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা আবদুল করিমকে ‘সাহিত্যসাগর’ খেতাব এবং চট্টল ধর্মমণ্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ খেতাব প্রদান করে। শেষোক্ত খেতাবটি তিনি নামের সঙ্গে ব্যবহার করতেন।