নওগাঁর রাণীনগরের পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ১০ মাস আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। সম্প্রতি তোলা সমকাল
নওগাঁর রাণীনগরে ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৩টির ভবনের বিম ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে। খসে পড়ছে ভবনের ছাদের পলেস্তারা। এগুলোর মধ্যে ২৫টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে স্থানীয় শিক্ষা দপ্তর। একটি বিদ্যালয়ের পুরো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ১০ মাস ধরে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস গত ২৫ আগস্ট ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করে। এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটিমাত্র ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। শিক্ষক-অভিভাবকরা জানান, পরিত্যক্ত, ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত– সব ধরনের বিদ্যালয়ের ভবনে শিশুদের পাঠদান করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক তাদের শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করছেন।
সম্প্রতি রাণীনগর উপজেলার পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক মাহাতাব হোসেন জানান, ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ১৯৯৬ সালে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে চিঠি দেন। এর পরও ১০ মাস ধরে সেই ভবনেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে আর কোনো ভবন না থাকায় এবং বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান অব্যাহত রাখতে হয়েছে। রাণীনগর উপজেলার ৩৮ নম্বর কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের একটি ভবনের দুটি শ্রেণিকক্ষ অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে টিনের ছাউনির একটি ঘরে পাঠদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও একটি ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারের বাবা মহসিন আলী বলেন, শিশুদের মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যে কোনো সময় পুরো ছাদই ভেঙে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যে কারণে বেশ কয়েক দিন মেয়েকে বিদ্যালয়ে যেতে দেইনি। শিক্ষকদের অনুরোধে বিদ্যালয়ে পাঠালেও সন্তান বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত চরম উদ্বেগের মধ্যে সময় পার করতে হয়।
রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী বলেন, ২৫টি বিদ্যালয়ের ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর তালিকা পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে– পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরদার কয়া ও বড়িয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভেবড়া কালীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভান্ডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাতোয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সঞ্জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাসকামতা সরকারি প্রাথমিক, নারায়ণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়সার প্রাথমিক বিদ্যালয়, করজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষ্মীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিম্বা সরকারি প্রাথমিক, খাসপারইল সরকারি প্রাথমিক, কৃষ্ণপুর মালঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক, এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক, আনালিয়া সরকারি প্রাথমিক, পালশাকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক, তেবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক, ভাদালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝগ্রাম মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাণীনগর (২) সরকারি প্রাথমিক এবং ছয়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রাণীনগর ইউএনও রাকিবুল হাসান বলেন, কাজের ধরন অনুযায়ী ৫৫টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নকাজের জন্য তালিকা করা হয়েছে। স্থানীয় এমপি শেখ মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]