নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন ভূমিকায় নেমেছিলেন দুই চেনা কোচ। কিন্তু অল্পের জন্য জয় দিয়ে নিজ দেশ জার্মানির হয়ে অভিষেকটা রাঙাতে পারলেন না লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। আর ডাচদের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেকে শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়িয়েছেন বার্সেলোনার সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজ। আমস্টারডামে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে নেশন্স লিগ শুরু করেছে জার্মানি। অভিষেকে হার এড়াতে পেরেই খুশি জাভি।

নেদারল্যান্ডস ম্যাচজুড়ে আক্রমণে দাপট দেখালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। উল্টো ৩২ মিনিটে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জার্মানদের এগিয়ে দেন ফেলিক্স এনমেচা। জার্মানরা যখন জয় উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই সমতা ফেরান কোডি গ্যাকপো। যোগ করা সময়ে বদলি নামা রুবেন ফন বোমেলের দারুণ ক্রসে অসাধারণ এক ভলি শটে জার্মান গোলরক্ষক টের স্টেগানকে পরাস্ত করেন গ্যাকপো। শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া হওয়ায় স্বভাবতই কিছুটা হতাশ জার্মান কোচ ক্লপ। এর সঙ্গে তাদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে দুই তারকার ইনজুরি। প্রথম একাদশে থাকা তরুণ প্লেমেকার জামাল মুসিয়ালা মাঠে নামার আগে গা গরমের সময় ঊরুতে চোট পেয়ে ছিটকে যান। আর ম্যাচের ৩০ মিনিটে তারকা স্ট্রাইকার কাই হাভার্টজের হাঁটুতে ডাচ ডিফেন্ডার কুইন্টন টিম্বারের বুটের আঘাত লাগায় কাতরাতে কাতরাতে মাঠ ছাড়েন তিনি। দুজনকেই চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর পাবে না জার্মানি। শেষ মুহূর্তে ড্র করলেও জাভি খুশি ডাচদের খেলায়।

ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ এ কোচ বলেন, ‘শেষ মুহূর্তের গোলে সত্যই আমি ভীষণ খুশি। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছি। এটা কেবলই শুরু, আমি আজ রাতের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট।’

উয়েফা নেশন্স লিগে জয় দিয়ে শুরু করেছে পর্তুগাল। লিসবনে জোয়াও ফেলিক্সের গোলে ১-০ ব্যবধানে ওয়েলশকে হারিয়েছে তারা। তবে হতাশ করেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাঁর একের পর এক মিসের কারণেই পর্তুগালের জয়ের ব্যবধান বড় হয়নি। এর মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবিশ্বাস্য এক মিস করেন তিনি। ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলতে ব্যর্থ হন তিনি। আলতো টোকা দিতে গিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর যদিও ব্রুনো ফার্নান্দেজের থ্রু পাস ধরে দারুণ শটে বল ওয়েলশের জালে পাঠিয়ে ছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে ভিএআর গোল বাতিল করে। এত মিসের কারণে ৬৭ মিনিটে রোনালদোকে তুলে নিয়ে গনসালো র‍্যামোসকে নামান কোচ হোর্হে জেসুস।

ম্যাচ শেষে রোনালদোকে তুলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কোচ বলেন, ‘ম্যাচের পরিস্থিতি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ গড়ে তোলার শুরুটা নষ্ট করতে আমাদের একজন সতেজ খেলোয়াড় দরকার ছিল।’ দলের খেলায় অবশ্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পর্তুগালের কোচ।

অসলোতে দারুণ শুরু করেছিল নরওয়ে। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের ১৪ মিনিটে ওডেগার্ডের পাসে একজনকে কাটিয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দিয়েছিলেন অস্কার বব। ৪ মিনিট পর আন্তোনিও নুসার পাসে ব্যবধান ২-০ করেন আর্লিং হালান্ড। তাই বলে দমে যায়নি সফরকারী ডেনমার্ক। ২৫ মিনিটে ফ্রি কিকে গোল করে ব্যবধান কমান ডামসগার্ড। ৭৪ মিনিটে আবার গোল করে নরওয়ের জয় নিশ্চিত করেন হালান্ড।