শান্তা জাহান। মডেল, অভিনেত্রী ও উপস্থাপক। নিয়মিত উপস্থাপনা করলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর টান কমেনি। প্রায় ১১ বছর পর সম্প্রতি অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহর ‘অচেনা পথের বাঁকে’ নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটক, ওটিটি, সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন বুলবুল ফাহিম

প্রায় ১১ বছর পর অভিনয়ে ফিরলেন। বিরতির পর ফেরার গল্পটা কেমন? অনেকদিন পর আবার কাজ করলাম। চেনা আঙিনায় ফেরার আনন্দ অন্যরকম। দীর্ঘ বিরতির পর নাটকে অভিনয় করা হলো। নাটকটির নাম ‘অচেনা পথের বাঁকে’। এটি মাবরুর রশীদ বান্নাহর কাজ। আমার সঙ্গে আকিব বিন প্রান্ত অভিনয় করেছে। নতুন প্রজন্মের একজন শিল্পী।

এখানে আপনার চরিত্রটি কেমন? আমার চরিত্রটি একজন শিক্ষকের। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে এক ধরনের সম্পর্ক থাকে, অনেক সময় সেটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। শিক্ষার্থী শিক্ষকের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। সেখান থেকে গল্পটি এগিয়েছে। আমার চরিত্রটি বুঝতে পারে যে ছেলেটি তার প্রতি খুব সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া সে নিজেও জীবনের একটা পর্যায়ে আছে। তার স্বামীর সঙ্গে হয়তো ভালো সম্পর্ক নেই; কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে, সেটাও সে জানে না।

এতদিন পর মনের মতো গল্প পাওয়া কি কঠিন হয়েছে? আসলে বেশির ভাগ গল্প এমন আসে–কোনো বোনের চরিত্র, কারও ‘সিনিয়র ক্রাশ’ অথবা কারও স্ত্রী; যার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো খুব পরিচিত গল্প। আমি একটু ভিন্নভাবে ভাবতে চাই। তাই মনের মতো গল্পের জন্য অপেক্ষা করি।

তাহলে নিয়মিত নাটকে ফিরছেন কি? নাটক করব, তবে মাঝে মাঝে। আমার ধ্যান-জ্ঞান উপস্থাপনা। এটি আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে এ জায়গাতে আমি সবচেয়ে স্বস্তি পাই এবং আত্মতৃপ্তিও এখানে।

এতদিন পর নাটকে কাজ করার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ ছিল? বিষয়টা বেশ মজার। এতদিন অনেক নাটকের প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু আমার উপস্থাপনার ইভেন্টের তারিখের সঙ্গে প্রায়ই নাটকের শুটিংয়ের তারিখ মিলে যেত। ফলে কাজ করা হয়ে উঠত না। বান্নাহ ভাই এর আগেও চার-পাঁচটি নাটকের জন্য বলেছিলেন। তাঁকে আমি আগেই বলে রেখেছিলাম, ধারাবাহিকে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। একক নাটক হলে করতে পারি, সেটাও যদি আমার সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। এবার সেটাই হয়েছে। দুদিন কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু এক দিন কাজ করার পর আমার আরেকটি ইভেন্ট চলে আসে।