নাম ঠিক হলেও তখনো অভিযাত্রা শুরু হয়নি। বরং শুরু হলো প্রস্তুতির সবচেয়ে কঠিন পর্ব। ৫৯ জনকে একসঙ্গে নিয়ে যাত্রার ব্যবস্থা করা।

৫৯ জনের বিশাল দল। সবাই একসঙ্গে ট্রেনে যেতে চাই। সে জন্য দুটি বগির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলল। কিন্তু দুই দিন চেষ্টা করেও বগির সুরাহা হলো না। এবার বিকল্প ভাবনা। কয়েকজন মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, সকাল আটটায় সবাই একত্র হয়ে রেলওয়ের অ্যাপে টিকিট কাটতে হবে।

আমাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ঘুমকাতুরে আরও প্রায় ২০ জনকে একসঙ্গে করা হলো এই কাজে। নির্ধারিত সময়ে সবাই মিলে অনলাইনে টিকিট কাটার মিশনে বসে গেলাম। শেষ পর্যন্ত ৫৯ জনের টিকিট কাটা হলো। কিন্তু স্বস্তি মিলল না। একেকজনের টিকিট পড়ল একেক বগিতে। ৫৯ জনের দল, অথচ ট্রেনে উঠেই সবাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে!

এত কিছুর পরও অবশ্য যাত্রার উৎসাহে ভাটা পড়েনি। থাকার জায়গাও আগে থেকে ঠিক করা হয়েছিল সিলেট শহরের দরগাগেটের পাশে। শহরের মধ্যে হওয়ায় বিভিন্ন দিকে যাতায়াতের সুবিধা হবে, এই হিসাবেই হোটেলটি বেছে নেওয়া হয়েছিল।

সব প্রস্তুতি শেষ করে ২ সেপ্টেম্বর রাতে ৫৯ জনের বহর হাজির কমলাপুর রেলস্টেশনে। রাত সাড়ে ১০টার উপবন এক্সপ্রেসে শুরু হলো শ্রীহট্টের পথে যাত্রা।

রাতের ট্রেন। জানালার বাইরে অন্ধকার, ভেতরে পরিচিত মুখগুলোর আড্ডা। কেউ গল্প করছে, কেউ ঘুমানোর চেষ্টা করছে, কেউ আবার পরদিনের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত। এভাবেই কেটে গেল রাত।