VoiceBD অনলাইন ডেস্ক: হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভিড় শয্যা, চিকিৎসক ও খাদ্য সংকট নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে এ সংক্রান্ত ঘটনাবলী বিশেষ গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে ডেঙ্গুসহ ঋতুভিত্তিক নানা রোগীর চাপ। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে মেঝে ও বারান্দাজুড়ে ভর্তি রয়েছেন ১৩০ জন রোগী, যার মধ্যে ২৯ জনই ডেঙ্গু আক্রান্ত। উপচে পড়া রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ সম্প্রতি ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে গ্রামে ফিরেছে। ঢাকায় অবস্থানকালে অথবা বাড়িতে আসার পর রক্ত পরীক্ষা করালে তাদের ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ, ১০ জন নারীসহ বিপুল সংখ্যক রোগী শয্যা না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসাধীন হালিমা বেগম ও ঢাকা থেকে আসা নাহিদ জানান, জ্বর নিয়ে বাড়িতে এসে রক্ত পরীক্ষা করানোর পর জানা যায়, তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। বহির্বিভাগের রোগীদের অভিযোগ, ডাক্তার দেখানোর একটি টিকিট পেতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পার্বতীপুর থেকে আসা রোগী জাহানারা বেগমের অভিযোগ, আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা মেলে। চিকিৎসক সকালে ঘণ্টাখানেক রাউন্ডে এলেও দুপুরের পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তাদের দেখা পাওয়া যায় না। ভর্তি রোগীদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগও রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র ও কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, ২০১১ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে তুলনায় জনবল বাড়ানো হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৩টি মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৯ জন। কর্মচারীর ৯৯টি পদ খালি থাকায় সার্বিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ভেঙে পড়েছে। গত আগস্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে জরুরি প্রসূতি সেবা (ইওসি) ও সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। ফলে অন্তঃসত্ত্বাদের বাধ্য হয়ে ৪৮ কিলোমিটার দূরের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। একই চিত্র উপজেলাজুড়ে। ২০২৩ সালে উদ্বোধন হওয়া মাদারগঞ্জ, খালাশপীর, চতরা মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র গত তিন বছরেও জনবল না পাওয়ায় পরিত্যক্ত। ১৫টি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থেকেও হাজার হাজার রোগী এসে পীরগঞ্জ হাসপাতালেই ভিড় জমাচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার পীরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। বহির্বিভাগে দৈনিক ছয়-সাতশ রোগী সামলাতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও ওষুধ সরবরাহ নিয়ে আমাদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নয়নে দ্রুত বরাদ্দ ও জনবল বৃদ্ধি করা জরুরি।’
বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বশীল মহল মনে করছেন, এই পরিস্থিতির অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
VoiceBDNews পাঠকদের জন্য এই ঘটনার সর্বশেষ ও বস্তুনিষ্ঠ সব আপডেট সবার আগে তুলে ধরছে।