স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হাম প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুর টিকাদান শুরু হয়েছে। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে টিকা দেওয়া হবে। গতকাল রোববার ঢাকার মহাখালীর কড়াইলে টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। সর্বশেষ ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে কর্মসূচি আরও জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে। ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়া আরও ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে চালু না থাকা এবং উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থার কারণে বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল। তাঁর দাবি, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চার বছর ধরে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে বহু শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। প্রত্যেক শিশুর মৃত্যু সরকারের জন্য অত্যন্ত বেদনার, একই সঙ্গে লজ্জারও। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশজুড়ে বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে বলে জানান
মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপপ্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়ালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরও তিনজনের মৃত্যু গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৬৪ শিশু। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০১ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৭। ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৮০ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা এক হাজার ৬৪।
ই-মেইল: [email protected], [email protected]