আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম বলেছেন, স্থাপত্যের মূল দায়িত্ব হলো মানুষ, পরিবেশ ও সময়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা। স্থাপত্যকে এমনভাবে রূপ দিতে হবে যা জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের পরিবর্তিত জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের (আইএবি) খুলনা চ্যাপ্টারের অভিষেক উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুরুতে বিল্ড এক্সপোর উদ্বোধন করা হয়। পরে শুরু হয় সেমিনার। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন আইএবি খুলনা চ্যাপ্টারের সদস্য সচিব এস এম নাজিম উদ্দীন।
আগা খান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মেরিনা তাবাসসুম ‘খুদি বাড়ি’ উদাহরণ টেনে বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন চরাঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হবে এবং তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা যাবে।
প্রথিতযশা স্থপতি নিহাস আহমেদ খলিল বলেন, ‘স্থাপত্যচর্চা মানে শুধু ইট, কাঠ বা কংক্রিটের কোনো কাঠামো বা দৃষ্টিনন্দন ভবন তৈরি করা নয়; এটি আসলে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত জীবনপ্রক্রিয়া।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা না করে, প্রকৃতির আলো-বাতাসকে ভবনের ভেতরে জায়গা করে দাও। প্রকৃতির সঙ্গে এই পরিমিতিবোধ ও সততাই তোমাদের কাজকে অনন্য করে তুলবে।’
অভিষেক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আইএবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সামসুল ওয়ারেস। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আইএবির বর্তমান সভাপতি আবু সায়েদ এম আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক গৌরি শংকর রায়। অনুষ্ঠানে দেশের প্রায় ২০০ স্থপতি অংশ নেন।