পাঠ আলোচনায় উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘এ বই আলোচনা করার আগে জানতে হবে নামকরণ নিয়ে। যেহেতু বইটি ভ্রমণকাহিনি নিয়ে, এখানে জলে বলতে লেখক বুঝিয়েছেন নদী কিংবা সমুদ্রপথ এবং ডাঙায় বলতে বুঝিয়েছেন স্থলপথ। বইটি ভ্রমণের মধ্য দিয়ে মানুষ ও পৃথিবীকে দেখার এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা। মাদ্রাজ বন্দর থেকে জাহাজে যাত্রা শুরু করে লেখক সুয়েজ, পোর্ট সইদ, কায়রোসহ নানা স্থান ও সংস্কৃতির সঙ্গে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেন। জাহাজের সহযাত্রী, অপরিচিত মানুষদের আচরণ, বিচিত্র সংস্কৃতি এবং পথের ছোট ছোট ঘটনাকে মুজতবা আলী তাঁর স্বভাবসুলভ রসবোধ ও বৈঠকি ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে পাঠকের কাছে ভ্রমণটিও হয়ে ওঠে জীবন্ত ও সহজাত। বইটির সৌন্দর্য হলো এর সাবলীল ভাষাশৈলী। তা ছাড়া বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে গল্প, পর্যবেক্ষণের সঙ্গে হাস্যরস এবং ভ্রমণের সঙ্গে মানুষের জীবনকে মিলিয়ে লেখক তৈরি করেছেন এমন এক পাঠ, যেখানে অচেনা পৃথিবীও ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে ওঠে।’

বইটি পড়ার অনুভূতি নিয়ে বন্ধু রাতুল দত্ত বলেন, ‘লেখকের একটি গল্প আমাদের স্কুলজীবনে পাঠ্যবইয়ে ছিল। ওনার রসবোধ এবং সাবলীল ভাষার কারণে আমরা পড়ে বেশ আনন্দ পেতাম। আজকের পাঠচক্রে লেখকের “জলে ডাঙায়” বইটি নিয়ে আলোচনা শুনে নতুন কিছু শব্দের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, দর্শন, রম্যকাহিনিসহ আরও বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছি।’

পাঠচক্র শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ী হয়েছেন বন্ধু অদ্রীক রায়, ফাহিম শেখ ও নাফিসা মালিয়াত।

পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শান্ত বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফ উল হক, সমন্বয়কারী তাফসিরুল ইসলাম, বন্ধু সাকিবুল ইনাম, শাহরিয়ার আহমেদ, আবদুল্লাহ মাহমুদ, সাইয়েদ বিন সাগর, আশরাফ আরাবী ও রাতুল দত্ত।