এগারো দিনের চলচ্চিত্রযাত্রার পর পর্দা নামল কানাডার মর্যাদাপূর্ণ টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) ৫১তম আসরের। শেষ দিনে উৎসবজুড়ে দর্শক ও জুরিদের পছন্দে উঠে এসেছে একের পর এক চলচ্চিত্র। এ বছরের সর্বোচ্চ দর্শক-ভোটের স্বীকৃতি পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে হ্যাভিয়ের কালভো ও হ্যাভিয়ের আমব্রোসি পরিচালিত স্প্যানিশ চলচ্চিত্র 'লা বোলা নেগ্রা'।
আন্তর্জাতিক বিভাগে পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড গেছে সাইমন স্টোনের 'এলসিনোর'-এর ঝুলিতে। টিআইএফএফ লাইটবক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে এবারের উৎসবে ১২টি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছিল পিপলস চয়েসের চার বিভাগ, প্ল্যাটফর্ম প্রাইজ, কানাডিয়ান চলচ্চিত্রের দুটি পুরস্কার, শর্টকাটস, ফিপ্রেসি ও নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড। উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত পুরস্কারগুলোর একটি পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড। ১৯৭৮ সালে চালু হওয়া এ পুরস্কার টিআইএফএফের দর্শকের ভোটে নির্বাচিত হয়।
এবার মূল বিভাগে 'লা বোলা নেগ্রা'র পর প্রথম রানারআপ হয়েছে পিটার ফ্যারেলির 'আই প্লে রকি', দ্বিতীয় রানারআপ সিয়ান হেডারের 'বিইং হিউম্যান'। আন্তর্জাতিক বিভাগে 'এলসিনোর'-এর পর প্রথম রানারআপ হয়েছে লি চ্যাং-দংয়ের 'পসিবল লাভ' এবং দ্বিতীয় রানারআপ হর জিন হোর 'দি অ্যাসাসিন (স)'। তথ্যচিত্র বিভাগেও দর্শকের পছন্দ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যারি অ্যাভরিচ পরিচালিত 'ডার্লিন লাভ: আই নো হোয়্যার আই'ভ বিন' পেয়েছে।
পিপলস চয়েস ডকুমেন্টারি অ্যাওয়ার্ড। এ বিভাগে প্রথম রানারআপ 'ব্ল্যাক সানফ্লাওয়ার্স', দ্বিতীয় রানারআপ 'দি আলট্রা রানার'। টিআইএফএফের আলোচিত মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগে দর্শকের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে ম্যাথিউ র্যাঙ্কিন-ব্রায়ান মূলরোনি পরিচালিত 'লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন'। এ বিভাগে প্রথম রানারআপ 'দ্য স্পাইরাল', দ্বিতীয় রানারআপ 'অ্যারেস্টেড মেমোরি'। তবে এবারের আসরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে প্ল্যাটফর্ম প্রাইজে।
২০১৫ সালে চালু হওয়া এ পুরস্কার দেওয়া হয় শক্তিশালী নির্মাণদৃষ্টি ও স্বতন্ত্র গল্প বলার জন্য। এবার পুরস্কারটি পেয়েছে ভারতের নির্মাতা যেজা রিওর 'অ্যাং'। পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরি নির্বাচিত এ চলচ্চিত্রের নির্মাতা পেয়েছেন ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার পুরস্কার। প্ল্যাটফর্ম বিভাগে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে আমান্ডা কার্নেলের 'ব্রেস ইয়োর হার্ট (গ্যারাট ভু ভাইমু)'। সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড ও বুলগেরিয়ার যৌথ প্রযোজনার এ চলচ্চিত্র আর আপাত সরলতার আড়ালে আজকের বিশ্বের জটিল বাস্তবতা তুলে ধরেছে বলে মনে করেছে জুরি। এবারের প্ল্যাটফর্ম প্রাইজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে একটি নতুন নিয়মের কারণে। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রাইজজয়ী কোনো অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র এখন সরাসরি অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে যোগ্যতার পথ পারে। বিশ্বের মাত্র ছয়টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পুরস্কারের এমন সরাসরি পথ রয়েছে। সেরা আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে গ্রিস ও নেদারল্যান্ডসের। যৌথ প্রযোজনার 'মাম্মালিয়া'; পরিচালক এলিয়া কালোগিয়ানি। সেৱা কানাডিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হয়েছে মাইকেল ডেল মন্টের 'ফাইট কিড'। সেরা অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার গেছে যুক্তরাজ্যের বরুণ রমন ও টম হ্যানককেসা 'ইনটু দ্য বেটাভার্স'-এর হাতে। শর্টকাটস বিভাগে সম্মানজনক উল্লেখ পেয়েছে যথাক্রমে 'দ্য স্পেকটাকুলার ডেথ অব প্রিসকা', 'অলমোস্ট পিংক' এবং 'টার্মিনাল'।
এদিকে, উদীয়মান নির্মাতাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য দেওয়া ফিপ্রেসি প্রাইজ পেয়েছে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনা 'অ্যানসেস্টরস' এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চলচ্চিত্রকে স্বীকৃতি দেওয়া নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ফিলিস্তিনের নির্মাতা হোসাম আবু দানের 'থার্টিন ইন গাজা' বেষ্ট কানাডিয়ান ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে কোডি লাইটনিং পরিচালিত 'স্মাজ দ্য রেডস'। এ বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে ইউলা বেনিভলভির 'দ্য ব্ল্যাক বক্তা ইজ অরেঞ্জ'।