সুপার এল নিনোর কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপ আগামী ৬ মাসে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। মানুষের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পরিমাপের গবেষণা সংস্থা ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারত, নাইজেরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব পড়বে।

এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে ‘পিয়ার-রিভিউড’ পদ্ধতি ব্যবহার করে। এতে বিশ্বের ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলে মাসভিত্তিক তাপমাত্রা এবং অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর সম্পর্ক শনাক্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে আগামী মাসগুলোতে এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস যুক্ত করা হয়েছে। ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে, ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গড় মাসে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা।

জলবায়ু সংকটের কারণে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। নতুন হিসাবটি ওই সংখ্যার বাইরে। গবেষকেরা বলেছেন, এল নিনোর কারণে সৃষ্ট খরা, দাবানল ও বন্যা থেকে আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

আগেভাগেই যাতে মানুষের সুরক্ষা ও জীবন বাঁচানোর পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে জন্য গবেষকরা অঞ্চলভেদে তাপজনিত মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছেন। পদক্ষেপের মধ্যে থাকতে পারে উন্নত তাপপূর্বাভাস ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র (কুলিং সেন্টার) স্থাপন, সবচেয়ে গরম সময়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জনবল বাড়ানো এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা।

এবারের এল নিনো কয়েক মাস পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু এর আগেই গত সোমবার এল নিনোর ইতিহাসে রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আগের ঘটনাগুলোর তুলনায় এবার তাপমাত্রা এতটাই বেশি যে, বিজ্ঞানীরা একে অবিশ্বাস্য এবং ‘গডজিলা লেভেল’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যুর এই সংখ্যার আবেগীয় মূল্য অনেক বেশি। কারণ এর মধ্যে কারও মা-বাবা, সন্তান, দাদা-দাদি কিংবা অন্য কোনো স্বজন থাকতে পারে।