সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বুধবার মার্কিন ডলারের দর দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত, তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর পরিমাপকারী সূচক ০.১৬ শতাংশ বেড়ে ১০০.৭১-এ দাঁড়িয়েছে। ইউরোর মান কমে জুলাইয়ের শেষভাগের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সর্বশেষ ইউরোর দর ছিল ১.১৪২৮২ ডলার। স্টার্লিংয়ের বিনিময়মূল্য ছিল ১.৩৩১৬ ডলার।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বৃদ্ধি ও কঠোর মুদ্রানীতি মুদ্রাবাজারের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মুদ্রাস্ফীতি কমে না এলে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।
ইনটাচ ক্যাপিটাল মার্কেটসের এশিয়া অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগের প্রধান কিয়েরান উইলিয়ামস বলেন, সুদের হার বৃদ্ধির ফলে ডলার যে সহায়তা পাচ্ছে, তা দীর্ঘস্থায়ী মনে হচ্ছে। তবে ফিউচারস মার্কেটে ফেডারেল রিজার্ভের নিজস্ব পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি আগে থেকেই ধরে নেওয়া হয়েছে। এখন এই প্রত্যাশার সত্যতা নিশ্চিত করতে ডলারের পক্ষে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক তথ্য প্রয়োজন।
এদিকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে—এমন সম্ভাবনার খবরে তেলের দাম কমেছে। উইলিয়ামস বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার খবরের পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় তেলের বাজার থেকে ডলারের সমর্থন কিছুটা দুর্বল হয়েছে।