বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি পাঠকসি চিন পিং ও বাংলাদেশ: ঐতিহাসিক সফর থেকে অভিন্ন ভবিষ্যতের পথেলেখা: লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহাদাত হোসেন (অব.)প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ০৫ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংছবি : রয়টার্স২০২৬ সালের ১ অক্টোবর চীন যখন ৭৭তম জাতীয় দিবস উদ্‌যাপন করবে, তখন সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বের সময়কালে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রযাত্রার দিকে ফিরে তাকানো সময়োপযোগী। বাংলাদেশের জন্য সি চিন পিংকে বোঝা শুধু একটি বৃহৎ বৈশ্বিক শক্তির নেতাকে বোঝার বিষয় নয়; বরং এটি এমন এক নেতার সময়কালকে বোঝার বিষয়, যার নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকাশের অধ্যায়ও যুক্ত।

চীনের সঙ্গে আমার নিজের সম্পর্কের সূচনা ১৯৮৮ সালে। সে বছর সরকারি বৃত্তিতে আমি প্রথম বেইজিংয়ে যাই এবং তৎকালীন বেইজিং ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে, বর্তমানে বেইজিং ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার ইউনিভার্সিটিতে (বিএলসিইউ) পড়াশোনা শুরু করি। এর পর থেকে চীন আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে, চীনা ভাষার শিক্ষার্থী ও স্নাতক, দোভাষী, শিক্ষক ও গবেষক এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একজন নিবিড় পর্যবেক্ষক হিসেবে।

সি চিন পিংয়ের রাজনৈতিক যাত্রা চীনের গ্রামীণ তৃণমূল থেকে শুরু হয়ে কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পৌঁছেছে। ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণকারী সি চিন পিং কৈশোরের একটি সময় শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে কাটান, যেখানে তাঁকে ‘শিক্ষিত যুবক’ হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ফুচিয়ান, চচিয়াং ও সাংহাইয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন।

এই বিস্তৃত অভিজ্ঞতা সিকে গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় প্রশাসন, সংস্কার, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত করে। ২০১২ সালে তিনি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট হন। তাঁর নেতৃত্বের সময়কালে চীনের আধুনিকায়ন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও দরিদ্রতা হ্রাসে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে।

চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা নির্দিষ্ট নীতিমালা সম্পর্কে যার যার নিজস্ব মূল্যায়ন থাকতে পারে; তবে এই সময়ে চীনের রূপান্তরের ব্যাপকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সি চিন পিং প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন ২০১০ সালের জুনে, তখন তিনি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ১৪-১৫ জুনের সেই সফরে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই দেশ তাদের ‘ঘনিষ্ঠতর সার্বিক সহযোগিতার অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা করে। আলোচনায় যোগাযোগ, অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বৃহত্তর উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে।