মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি আয়োজনশিশু বিকাশ সিলেটে শিশুর বিকাশে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়লেখা: অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরীপ্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭: ০৪ প্রতীকী ছবিশিশুর বিকাশ মানে শুধু শারীরিকভাবে বেড়ে ওঠা নয়। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শেখার সুযোগ, ভালোবাসা ও নিরাপত্তার সমন্বয়েই একটি শিশুর পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত হয়। কিন্তু সিলেটের শিশুদের বাস্তবতা বলছে, এই সমন্বিত সুযোগ নিশ্চিত করতে এখনো অনেক পথ বাকি। শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে তার ওজন, উচ্চতা কিংবা বয়স অনুযায়ী শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিকাশ, ভাষা শেখা, চিন্তাশক্তি, সামাজিক সম্পর্ক, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও শেখার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। এই সমন্বিত ধারণাকেই বলা হয় সমন্বিত শিশুবিকাশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্বব্যাংকের লালন–পালন কাঠামো অনুযায়ী, শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য পাঁচটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত—সুস্বাস্থ্য, পর্যাপ্ত পুষ্টি, সংবেদনশীল পরিচর্যা, প্রারম্ভিক শেখার সুযোগ এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা। তাই শিশুর জন্য শুধু চিকিৎসক বা হাসপাতাল যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার, ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক, খেলাধুলা ও শেখার সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রয়োজনের সময় যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা।
গর্ভাবস্থা থেকে জীবনের প্রথম পাঁচ বছর, বিশেষ করে প্রথম এক হাজার দিন, শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় শিশুর মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়। জীবনের প্রথম তিন বছরের মধ্যে মস্তিষ্কের প্রায় ৮০ শতাংশ গঠন সম্পন্ন হয়। মা–বাবা বা পরিচর্যাকারীর হাসি, কথা বলা, স্পর্শ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মতো অভিজ্ঞতা শিশুর মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ শক্তিশালী করে। বিপরীতে দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য, ভয়, পারিবারিক সহিংসতা বা অবহেলা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করতে পারে।
এই সময়ে পুষ্টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পর বয়সোপযোগী ও পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচর্যা ও পুষ্টির ঘাটতির প্রভাব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উপার্জনক্ষমতা ও সামাজিক আচরণেও পড়তে পারে। প্রারম্ভিক শিশুবিকাশে বিনিয়োগের অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। এ খাতে ১ ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে ১৩ ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রতিদান পাওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, ইউনিসেফ ও অন্যান্য অংশীদারের সহযোগিতায় পরিচালিত ২০২৫ সালের একাধিক নির্দেশক জরিপের বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে সিলেটের শিশুদের সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়।
সিলেট বিভাগে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার প্রতি ১ হাজার জীবিত জন্মে ৪৩ জন। জাতীয় হার ৩৩। নবজাতক মৃত্যুহার প্রতি ১ হাজার জীবিত জন্মে ২৯ জন, জাতীয় হার ২২। এক বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার সিলেটে ৪০ জন, যেখানে জাতীয় গড় ২৯। অর্থাৎ শিশুর বেঁচে থাকা ও সুস্থ বিকাশকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।