বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি পাঠকসরকারি-বেসরকারি বৈষম্য: রাষ্ট্রের সেবায় সবাই, সুবিধার বেলায় কেন শুধু সরকারি কর্মচারীলেখা: প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৪২ প্রতীকী ছবিদক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় সরকারি ও বেসরকারি চাকরির মধ্যে বৈষম্য নতুন কোনো বিষয় নয়। আমাদের সমাজব্যবস্থায় সরকারি চাকরি যেন শুধু একটি পেশা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাড়তি সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতা, প্রভাব এবং একধরনের আলাদা শ্রেণিগত অবস্থান। বিপরীতে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী, তিনি যত বড় প্রতিষ্ঠানেই চাকরি করুন, যত উচ্চশিক্ষিতই হোন কিংবা যত আকর্ষণীয় বেতনই পান না কেন, সামাজিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময় তাঁকে সরকারি চাকরিজীবীর সমপর্যায়ে বিবেচনা করা হয় না।
সরকারি চাকরিতে একজন কর্মচারীর পদ, গ্রেড, বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক অবস্থান একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সংজ্ঞায়িত। একজন কর্মকর্তা কোন গ্রেডে আছেন, তাঁর পদমর্যাদা কী, তিনি কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা—এসব বিষয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। ফলে সমাজেও তাঁর একটি নির্দিষ্ট মর্যাদা তৈরি হয়।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতে একই ধরনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সামাজিক অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করে তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, কত বেতন পাচ্ছেন কিংবা সমাজের চোখে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু—এর ওপর। ফলে একটি বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কিংবা একটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজারও অনেক ক্ষেত্রে সরকারি একজন মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তার মতো সামাজিক মর্যাদা পান না।
এটি নিছক সামাজিক মানসিকতার বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নীতিগত বাস্তবতা।
রাষ্ট্র কি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের দিয়েই পরিচালিত হয়
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপযুক্ত বেতন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অবদান রাখা অন্য কোটি কোটি মানুষের কথা কি একইভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে?