অর্থনীতিতে সঞ্চয় হলো বিনিয়োগের প্রধান উৎস। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঞ্চিত অর্থই বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগে রূপান্তরিত হয়। উচ্চ সঞ্চয় উচ্চতর স্তরের বিনিয়োগের অর্থায়ন করতে এবং দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

মানুষ যখন বেশি সঞ্চয় করেন, তখন ব্যাংকগুলো বিনিয়োগের জন্য ফার্মগুলোকে আরও ঋণ দিতে সক্ষম হয়। অর্থনীতিতে সঞ্চয় যখন খুব কম হয়, তখন বুঝতে হবে সেই অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি খরচ বেছে নিচ্ছে।

অর্থনীতির একটি মডেল হচ্ছে ‘হ্যারল্ড ডোমার মডেল’। এই মডেলের মতে, সঞ্চয়ের স্তরটি হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণের মূলমন্ত্র। হ্যারল্ড ডোমার মডেলের মূল অনুমান হচ্ছে অনেকটা এমন— সঞ্চয় বাড়ছে মানে বিনিয়োগ বাড়ছে, ফলে মূলধনও বাড়ছে। এতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, মানুষের হাতে অর্থ আসছে এবং এতে আবার সঞ্চয়ও বাড়ছে। মডেলটি এটিও বলে যে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য সঞ্চয় বেশ ভালো হলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে খুব বেশি সঞ্চয় প্রবণতায় মন্দার আশঙ্কা থাকে।

অর্থনীতিতে সঞ্চয়ের হারকে বহুলাংশে প্রভাবিত করে সুদ এবং একটি সুদৃঢ় ব্যাংকিং ব্যবস্থা। সেটা বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে অর্থনীতিতে সুদ আসলে কী?

ধ্রুপদী অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনীতিতে সুদ আসলে ভোগবঞ্চনার পুরস্কার। অর্থনীতিতে যে অর্থ সাধারণত ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়, তার মূল্যই হচ্ছে সুদ। কেউ যখন তাঁর মূলধন অন্যকে ধার দেন, তিনি তাঁর সেই মূলধনের বর্তমান ভোগ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেন। এ ভোগবঞ্চনার মূল্য হচ্ছে সুদ। আবার কেউ যদি তাঁর মূলধন অন্য কাউকে ধার না দিয়ে নগদ ঘরে ফেলে রাখেন, তবে তিনি তাঁর মূল্য বা সুদ থেকে বঞ্চিত হন।

ধ্রুপদী অর্থনীতিবিদেরা সুদকে ভোগবঞ্চনার পুরস্কার হিসেবে ধরলেও অর্থনীতিবিদ জন মেইনার্ড কেইনস বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেছেন। কেইনসের মতে, মানুষের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য নগদ টাকা ঘরে রেখে দেওয়ার সহজাত প্রবণতাকে পরিবর্তন করার জন্যই সুদ দেওয়া প্রয়োজন।