সড়কের দুই পাশে সংরক্ষিত বন। কোথাও পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে বসতি। এতদিন এলাকাটি ছিল দুর্গম। এ কারণে বনের ভেতরের অংশে দখলদারদের প্রবেশ ছিল সীমিত। এবার সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীর ১২ নম্বর পাহাড় মৌজায় ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণে অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সড়কটি নির্মাণে সংরক্ষিত বনের পাহাড় ও বনভূমি কাটতে হবে। এতে বনের ভেতরের দুর্গম এলাকা উন্মুক্ত হয়ে পড়বে। দুই প্রান্ত থেকে এগিয়ে আসা অবৈধ বসতি আরও ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। বাড়তে পারে পাহাড় কাটা, বন দখল ও গাছপালা নিধন। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, একদিকে বন বিভাগ যেখানে সংরক্ষিত বনের অবৈধ দখল ঠেকাতে মামলা করছে, অন্যদিকে সরকারি আরেক সংস্থা কেন সেই বনের ভেতর স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করছে? স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এই সড়ক নির্মাণের পক্ষে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
সড়ক নির্মাণ বন্ধ চেয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) রিট করলে গত ৬ আগস্ট হাইকোর্ট পাহাড় মৌজায় প্রস্তাবিত সড়কের ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন। তবে ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে সড়কের প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ মিটারের বেশি না করার শর্তে নির্মাণকাজ চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়। অবকাশ শেষে দুই সপ্তাহের মধ্যে মূল রিটের শুনানি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় চূড়ান্ত শুনানির আগেই সড়কের বড় অংশ নির্মিত হয়ে গেলে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক হলে এর দায় কে নেবে– এমন প্রশ্নও উঠেছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখল ঠেকাতে ১৯৫৭ সালে ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ একর জমিকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়। ১৭ কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বনের সর্বোচ্চ প্রস্থ প্রায় ৬ কিলোমিটার। এখানে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালার পাশাপাশি হরিণ, অজগর, হনুমান ও বানরসহ নানা বন্যপ্রাণী রয়েছে।