সারা বছর যেন অপেক্ষা করে থাকতাম সেই কয়েকটি দিনের জন্য। কখন পূজা আসবে, কখন নতুন পোশাক পরব, কখন বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ দেখতে বের হব—এসব ভাবনাই শৈশবের দিনগুলোকে অন্য রকম আনন্দে ভরিয়ে রাখত।

আজ এত বছর পর ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, সেই আনন্দের মূল্য কতখানি ছিল। তখন হয়তো হাতে ছিল না অনেক কিছু, কিন্তু মন ভরে ছিল অফুরন্ত কৌতূহল আর স্বপ্নে। সামান্য একটি নতুন জামা, পূজামণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিমা দেখা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় ঘুরে বেড়ানোই ছিল বিরাট প্রাপ্তি। জীবনের সেই সহজ আনন্দগুলোই আজ স্মৃতির পাতায় অমূল্য সম্পদ হয়ে রয়েছে।

প্রতিমা তৈরির বিস্ময়: চোখের সামনে মায়ের আবির্ভাব—

আজও চোখ বন্ধ করলে স্পষ্ট মনে পড়ে, স্কুল ছুটির পর কীভাবে ছুটে যেতাম মা দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে। প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপ আমার কাছে ছিল এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। প্রথমে বাঁশ দিয়ে কাঠামো তৈরি, তারপর খড় দিয়ে অবয়ব গঠন, মাটির প্রলেপ, ধীরে ধীরে মুখমণ্ডল ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফুটিয়ে তোলা—সবকিছুই যেন চোখের সামনে এক নতুন জগতের দরজা খুলে দিত।

এরপর আসত প্রতিমার সূক্ষ্ম কাজ। মুখের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা, চোখ আঁকা, রং করা, অলংকার পরানো এবং সাজসজ্জার মাধ্যমে দেবীমূর্তিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া—প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিমার সৌন্দর্য আরও বেড়ে উঠত।

প্রতিদিন একটু একটু করে বদলে যেত প্রতিমার রূপ। প্রথম দিকে যে কাঠামোকে সাধারণ কিছু মনে হতো, কয়েক দিনের মধ্যেই তা হয়ে উঠত এক অপূর্ব দেবীমূর্তি। মনে হতো, আমাদের চোখের সামনেই যেন মা দুর্গা ধীরে ধীরে আবির্ভূত হচ্ছেন।