গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জন এবং দুটি গরু শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছিল। ল্যাবে পাঠানো নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা জলাতঙ্ক পজিটিভ হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এর মধ্যে ভুক্তভোগী এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ খবর জানার পর আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে অনেক প্রতিবেশী ও স্বজন আক্রান্তদের বাড়িতে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছেন।
আক্রান্তদের পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের সেবাদানকারী এবং তাদের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় একটি শিয়াল জিগাবাড়ি গ্রামের মোছা. রাবেয়া বেগমকে প্রথম কামড় দেয়। এরপর শিয়ালটি বেপরোয়া হয়ে একে একে শিশুসহ ৯ জন মানুষ এবং দুটি গরুকে কামড়ে রক্তাক্ত করে। পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
গত সপ্তাহে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজি সেলের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা তিন দিন ধরে আক্রান্তদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেন।
ল্যাব গবেষণার মাধ্যমে রোগ নিশ্চিতকরণের জন্য একটি শিয়ালের মাথা মহাখালীর সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল। ল্যাবে পাঠানো নমুনায় জলাতঙ্ক রোগ ‘পজিটিভ’ এসেছে বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।