শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাসশিক্ষার উদ্দেশ্য কোথায় হারিয়ে যাচ্ছেলেখা: রহমান মৃধা, সুইডেনপ্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩: ০৭ শিক্ষার্থীদের পড়তে বলা হচ্ছে, শিক্ষকেরা পড়াচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ডিগ্রি দিচ্ছে, সরকার বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ করছে। তারপরও শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশ বেকার। তাহলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কোথায় সমস্যা?

আমরা সাধারণত শিক্ষার সংকট নিয়ে আলোচনা করতে গেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা, শিক্ষকদের অদক্ষতা কিংবা চাকরির অভাবের কথা বলি; কিন্তু সমস্যাটিকে যদি একটু গভীরভাবে দেখি, তাহলে আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে আসে—এত প্রতিষ্ঠান, এত শিক্ষক, এত শিক্ষার্থী এবং এত সরকারি বিনিয়োগের পরও শিক্ষাব্যবস্থা কেন প্রত্যাশিত জ্ঞান, দক্ষতা ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি করতে পারছে না?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। আগের বছর এই হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০২৫ সালের ৬৯ হাজার ৯৭ থেকে কমে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে। একই সঙ্গে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

এই পরিসংখ্যান শুধু শিক্ষার্থীদের ফলাফলের বিষয় নয়। এটি শিক্ষাদানের মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করে।

অবশ্য পাসের হার কমলেই শিক্ষার মান কমেছে, এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। পরীক্ষার প্রশ্ন, মূল্যায়নের কঠোরতা ও অন্যান্য পরিস্থিতিও বিবেচনা করতে হবে; কিন্তু পরপর নিম্ন ফলাফল এবং এত প্রতিষ্ঠানের শূন্য পাসের ঘটনা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।