মাসখানেক আগে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে তোলেন সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম শারীরিক ও মানসিকভাবে মরিয়ামকে নির্যাতন করতেন। মামলার এজাহারে মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহ এই অভিযোগ করেছেন।

তবে গতকাল সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিতর্কিত এমপি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। সে (মরিয়াম) আত্মহত্যা করেছে।’ মরিয়ামকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

মরিয়ামকে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুল এবং তার স্ত্রী মাকছুদাকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল ঢাকার সিএমএম আদালত শুনানি শেষে গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রোববার রাতে ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেরেবাংলা নগর থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল দাবি করেন, দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে মরিয়াম তার কক্ষে চলে যান। তিনি পাশের কক্ষে ছিলেন। তখন প্রথম স্ত্রীও বাসায় ছিলেন। ৫টার দিকে মরিয়ামের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। পরে জানালা দিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন।

পুলিশ জানায়, রোববার গভীর রাতে মরিয়ামের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় গাজী নজরুল, মাকছুদা ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল দুপুরে আদালতে নেওয়া হয়। প্রথমে তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। থানা থেকে মামলাটি স্থানান্তর করে গতকাল বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে রিমান্ড মঞ্জুরের পর আদালত থেকে গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে তদন্তসংশ্লিষ্টরা মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মাসখানেক আগে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগমকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে তোলেন গাজী নজরুল।