‘মোর মাইয়ার জীবনডা বখাইট্যা ফয়সাল শেষ কইর‍্যা দেছে।’ বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ বছরের শিশুটির মা কথাগুলো বলছিলেন। সোমবার বিকেলে জেলার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েটির ওপর হামলা চালায় ফয়সাল। তার এলোপাতাড়ি কিলঘুসি ও লাথিতে উপড়ে যায় শিশুটির তিনটি দাঁত। আরও দুটি দাঁত যায় ভেঙে। গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে গেলে ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব নিয়ে মেয়েটির মা জানান, চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে যেতে বলেছেন। পাশাপাশি ভালো ওষুধপথ্যের কথা বলছেন। তাঁর হাতে কোনো টাকা নেই। টাকার অভাবে বরিশাল নিতে পারছেন না। এখানে মেয়েটা হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

স্বজনেরা জানায়, পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে স্থানীয় বখাটে ফয়সাল মৃধা বেশ কিছুদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মেয়েটি বাড়ির বাইরে শৌচাগারে গেলে সে উঁকি দিয়ে শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। মেয়েটির চিৎকারে স্বজনেরা এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে স্বজনেরা সালিশ ডাকলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ফয়সাল। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ ফয়সাল বিদ্যালয়ে ঢুকে শিশুটির ওপর হামলা চালায়। সে মেয়েটিকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তার লাথিতে শিশুটির তিনটি দাঁত উপড়ে যায়। গতকাল বিকেলে হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে যান বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ননীগোপাল মালাকার। তিনি বলেন, মেয়েটির বুক ও দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে তার দাঁতের চিকিৎসা শুরু হবে বলে জানতে পেরেছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির মুখ ও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। দাঁত হারিয়ে সে গুরুতর ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তার মাড়ির এক্স-রে করার ব্যবস্থা বরগুনায় নেই। এ জন্য তাকে বরিশালে স্থানান্তর জরুরি। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হতে পারে। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী সার্জন মেহেদী হাসান জানান, ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তার ওপরের পাটির সামনের দিকে তিনটি দাঁত ছিল না। সে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তারা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছেন। এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের মামলায় হামলাকারী মো. ফয়সাল মৃধা (২২), তার ছোট ভাই মো. সিফাত মৃধা (২০) ও মা মোসা. শিরিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে পাঠায় পুলিশ। এদিকে বিদ্যালয় কমিটির সাবেক সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন জানান, শিশুটির ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার শশী বাজার এলাকায় এলাকাবাসী মানববন্ধনের কর্মসূচি দিয়েছেন।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]