বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাসরোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতিলেখা: রহমান মৃধা, সুইডেনপ্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৩৩ ভ্রমণেরও একটা নিজস্ব জীবন আছে। শুরুতে থাকে অজানাকে জানার কৌতূহল, মাঝপথে থাকে দেখা ও আবিষ্কারের আনন্দ, আর শেষবেলায় এসে মনে হয়, এতগুলো দিন কী দ্রুতই না কেটে গেল! গ্রিসের রোডস দ্বীপে এবারের সফরটিও ঠিক এভাবেই শেষের দিকে এসে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল সুইডেনে ফিরে যাব। সঙ্গে নিয়ে যাব কিছু দৃশ্য, কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু পরিচিত মুখ আর এমন কিছু স্মৃতি, যেগুলো হয়তো অনেক দিন মনের মধ্যে ঘুরে বেড়াবে।

রোডসে আসার আগে দ্বীপটি সম্পর্কে যা জানতাম, তার বড় অংশই ছিল ইতিহাস ও পর্যটনকেন্দ্রিক। কিন্তু কোনো জায়গা সম্পর্কে পড়া আর সেখানে গিয়ে কয়েকটি দিন কাটানো এক কথা নয়। বইয়ে ইতিহাসের সাল-তারিখ পাওয়া যায়, ছবিতে দেখা যায় সমুদ্রের নীল জল, আর ভ্রমণবিষয়ক লেখায় পাওয়া যায় দর্শনীয় স্থানের পরিচয়। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে বাতাসের স্পর্শ অনুভব করা, নিজের চোখে চারপাশ দেখা কিংবা অচেনা মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা অন্য রকম।

রোডসকে আমরা দেখেছি, তার সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি, রোদে সময় কাটিয়েছি, দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি এবং তার ইতিহাসকে আরও কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি অভিজ্ঞতা আলাদা, অথচ সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে আমাদের এই কয়েক দিনের ভ্রমণকাহিনি।

রোডসের সমুদ্রের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকা আর সমুদ্রে নেমে পড়ার মধ্যে যে পার্থক্য, তা সাঁতার না কাটলে পুরোপুরি বোঝা যায় না। তীরে দাঁড়িয়ে ঢেউ দেখা একধরনের আনন্দ, কিন্তু পানিতে নেমে যখন শরীরটাকে জলের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায়, তখন সমুদ্রের সঙ্গে সম্পর্কটাই যেন বদলে যায়।

কখনো সাঁতার কেটেছি, কখনো রোদে শুয়ে থেকেছি, কখনো শুধু চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করেছি। ছুটির দিনগুলোতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কোথাও পৌঁছানোর তাড়া থাকে না, কিছু অর্জন করারও প্রয়োজন পড়ে না। সময়কে শুধু নিজের মতো করে কাটাতে ইচ্ছা করে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সময়ের সঙ্গে একধরনের প্রতিযোগিতা চলে। কাজ, দায়িত্ব, পরিকল্পনা, ভবিষ্যতের চিন্তা, কত কিছুই না সামলাতে হয়! অথচ সমুদ্রের সামনে বসে থাকলে মনে হয়, জীবনের সব সময়কে কাজে লাগাতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কিছু সময় শুধু বেঁচে থাকার আনন্দ অনুভব করার জন্যও রাখা দরকার।