'ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে'- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন, দুরভিসন্ধিমূলক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচির দিনে গত রোববার রাজধানীর কমলাপুরে হাওর এক্সপ্রেসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে সামাজিকমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ডে ছড়ানো হয়, ট্রেনে আগুনের মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি জামায়াত নেতা। সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো খবর প্রকাশ করা হয়নি। বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো হয়।

এরপর মঙ্গলবার নয়াপল্টনে কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, 'ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে'। এর জবাবে এহছানুল মাহবুব বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানতে চেয়েছেন বিভিন্নস্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের কারা জড়িত। একই নীতিতে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো উচিত ছিল। কিন্তু কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনার জেরে গত সোমবার রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতকে লংমার্চ করছে না বলে প্রশ্ন তোলেন রিজভী। এর জবাবে এহছানুল মাহবুব বলেন, এসব বক্তব্য মূল ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার বিকল্প হতে পারে না। কে বা কারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]