মহান আল্লাহর অসংখ্য নামের একটি হলো ‘রহমান’। অর্থাৎ পরম করুণাময়। যিনি দুনিয়ায় মুমিন-কাফির সবাইকে দয়া করেন। এই রহমানের কিছু প্রিয় বান্দা আছে, যাদের আল্লাহতায়ালা নিজে ‘ইবাদুর রহমান’ বা রহমানের বান্দা বলে ডেকেছেন। সুরা ফুরকানের ৬৩ থেকে ৭৫ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের ১২টি গুণ বর্ণনা করেছেন। এ গুণগুলো যার মধ্যে থাকবে, আল্লাহতায়ালা তাকে জান্নাতের সবচেয়ে উঁচু মাকাম দান করবেন। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বিশেষ গুণাবলি–
১. চলাফেরায় বিনয়ী হওয়া। সুরা ফুরকানের ৬৩ আয়াতে এরশাদ হয়েছে: ‘যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে।’ নম্রতার গুণ মানুষকে সুন্দর করে ও সম্মান বাড়িয়ে দেয়।
২. অজ্ঞদের সঙ্গে তর্কে না জড়ানো। সুরা ফুরকানের ৬৩ আয়াতে আরও ইরশাদ হয়েছে– অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদের লক্ষ্য করে অজ্ঞতাসুলভ কথা বলে, তখন তারা বলে ‘সালাম’। রাস্তায়, ফেসবুকে কেউ গালি দিলে বা তর্ক করতে এলে রহমানের বান্দা পাল্টা গালি দেয় না।
৩. তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা। সুরা ফুরকানের ৬৪ আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা রাতযাপন করে তাদের পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দণ্ডায়মান অবস্থায়।’
৪. জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য দোয়া করা। সুরা ফুরকানের ৬৫ আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা বলে, হে আমাদের রব, জাহান্নামের আজাব আমাদের থেকে দূরে রাখুন।’ রহমানের বান্দা নিজেকে জান্নাতি মনে করে না। সে সবসময় জাহান্নামের ভয়ে থাকে। সে শুধু নামাজ পড়ে ক্ষান্ত হয় না; আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বলে, আল্লাহ আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।
৫. অপব্যয় ও কৃপণতা না করা এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। সুরা ফুরকানের ৬৭ আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না, কার্পণ্যও করে না, বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়।’