মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি দূর পরবাসযে লাউ সেই কদুলেখা: রহমান মৃধা, সুইডেনপ্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৩৬ ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আমার গভীর আগ্রহ। আমি গ্রামের ছেলে। আমার বাপ-দাদার চৌদ্দগোষ্ঠীই কৃষিকাজ করেছেন। তবে আমার বাবা ছিলেন পরিবারের প্রথম ব্যক্তি, যিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।
এর পেছনেও একটি ইতিহাস আছে। ব্রিটিশ শাসনামলে আমাদের এলাকায় নীলচাষের প্রচলন শুরু হয়েছিল। নীলচাষকে কেন্দ্র করে কৃষকদের ওপর অত্যাচার, অবিচার ও নির্যাতনের বন্যা বয়ে যেতে থাকে। স্থানীয় ছোটখাটো রাজাদের প্রভাবের পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচার সামাল দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ছাড়া আর কী-ই বা করার ছিল? শেষ পর্যন্ত আমার দাদা পরিকল্পনা করলেন, বাবাকে পুলিশ প্রশাসনে যুক্ত করবেন। বাবার চেহারা ও শারীরিক গঠন সম্ভবত তৎকালীন পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
কিন্তু সরকারি চাকরি করলেও বাবা কৃষিকাজ ছেড়ে দেননি। তাঁর ৩০ বছরের কর্মজীবনে যেমন কৃষিকাজ চলেছে, তেমনি অবসর গ্রহণের পরও তিনি জমি ও কৃষির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। কৃষি তাঁর কাছে কেবল জীবিকা ছিল না, ছিল পারিবারিক ঐতিহ্য ও জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রায় ২০ বছর আগে আমার মা–বাবা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমরা দেশের বাইরে থাকলেও আমাদের জমিতে কৃষিকাজ এখনো চলছে। তবে জমিজমার ভোগদখল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও লক্ষ করছি। সময় ও যথেষ্ট গুরুত্বের অভাবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কিন্তু মনে হচ্ছে, এবার কিছু একটা করা প্রয়োজন। কারণ, পূর্বপুরুষের সম্পত্তি শুধু উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার বিষয় নয়, তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও উত্তরসূরিদের।
সুইডেনে অবসর সময়ে আমি কৃষিকাজ করি। বিশেষ করে বাংলাদেশের দেশীয় শাকসবজি চাষ করে আসছি কয়েক বছর ধরে। মজার ব্যাপার হলো, শীতপ্রধান সুইডেনেও গ্রীষ্মের মৌসুমে বাংলাদেশের প্রায় সব ধরনের শাকসবজি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে দারুণভাবে উৎসাহিত করে। মনে মনে ভাবি, কৃষির প্রতি আগ্রহ, নতুন পদ্ধতি ও কিছুটা পরিশ্রম কাজে লাগাতে পারলে শীতের দেশেও গ্রীষ্মকালে একধরনের কৃষিবিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
আমার বাগানে লাউয়ের চাষ বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেক সুইডিশও এখন নিজেদের বাড়ির আঙিনায় লাউ চাষ শুরু করেছেন। আমি সবজিটিকে লাউ বলেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছি, মূলত উচ্চারণের সুবিধার্থে। এভাবেই বাংলাদেশের একটি পরিচিত সবজি সুইডেনের মানুষের কাছেও ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছে।