কিছু মানুষকে দেখলে মনে হয়, তাঁরা যে কাজটি করছেন, সেটি যেন তাঁদের জন্যই তৈরি। স্টিভ জবস, ডলি পার্টন কিংবা অ্যান্থনি বোর্দেইনের কথাই ধরা যাক। তাঁদের অন্য কোনো সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় কল্পনা করা কঠিন। কারণ, তাঁরা যে কাজ করেছেন, তার মধ্যে তাঁদের ব্যক্তিত্ব, আগ্রহ ও বিশেষ গুণগুলো খুব স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
স্টিভ জবস প্রযুক্তির সঙ্গে নকশাকে এমনভাবে মিলিয়েছিলেন, যাতে জটিল প্রযুক্তিপণ্যও মানুষের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ডলি পার্টন নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা ও গল্প বলার অসাধারণ ক্ষমতাকে গানে রূপ দিয়েছেন। অ্যান্থনি বোর্দেইনের কৌতূহল ও বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ তাঁকে খাবার, ভ্রমণ ও মানুষের জীবন নিয়ে ভিন্নভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে।
স্টিভ জবস, ডলি পার্টন কিংবা অ্যান্থনি বোর্দেইনের জন্মের সময়ই তাঁরা কী হবেন, তা নির্ধারিত ছিল—এমনটা বলা কঠিন। তবে তাঁদের কিছু স্বাভাবিক গুণ ও আগ্রহ ছিল, যা জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আরও বিকশিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই গুণগুলোর সঙ্গে তাঁদের কাজের চমৎকার মিল তৈরি হয়েছে।
তাই জীবনের উদ্দেশ্য বলতে হয়তো এমন কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজকে বোঝায় না, যা করার জন্য মানুষ জন্ম থেকেই নির্ধারিত; বরং এমন কাজ খুঁজে পাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে নিজের স্বাভাবিক দক্ষতা, আগ্রহ ও মূল্যবোধ একসঙ্গে কাজে লাগানো যায়।
কর্মজীবনের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, মানুষ সাধারণত এমন কাজেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, যেখানে তার নিজের শক্তিগুলো কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে। কারও ভালো লাগে স্বাধীনভাবে কাজ করতে। কেউ নতুন কিছু তৈরি করতে পছন্দ করেন। কেউ নেতৃত্ব দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আবার কেউ মানুষের সমস্যা সমাধান করতে বা অন্যকে শেখাতে আনন্দ পান।
অর্থপূর্ণ কাজের সঙ্গে ব্যক্তির এসব বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্লেষণে ১৪৪টি পৃথক গবেষণায় প্রায় ৫২ হাজার মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, দায়িত্বশীলতা, অন্যের প্রতি সহমর্মিতা, উদ্যোগী মনোভাব ও কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার মতো ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অর্থপূর্ণ কাজের সম্পর্ক রয়েছে।