ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের শীর্ষ সম্মেলনের পর যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় দুটি বড় পান্ডা পাঠাচ্ছে চীন। এগুলোকে দেশটির দূত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চলা রীতিটি বেইজিংয়ের ‘পান্ডা কূটনীতি’ নামে পরিচিত।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে পান্ডা দুটিকে উড়োজাহাজে তোলা হয়। এর আগে এগুলো দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চেংদু এলাকায় ছিল। আটলান্টায় পৌঁছানোর পর পান্ডা দুটি কোয়ারেন্টিনে থাকবে। তাদের দেখভালের জন্য সঙ্গে যাচ্ছেন কয়েকজন চীনা পশুচিকিৎসক ও পান্ডা প্রজনন বিশেষজ্ঞ।

আটলান্টার উদ্দেশে রওনা হওয়া পান্ডাগুলোর একটির নাম পিং পিং। এর অর্থ শান্তি। চীনের ন্যাশনাল ফরেস্ট্রি অ্যান্ড গ্রাসল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, পিং পিংয়ের জন্ম ২০২০ সালের ১৭ মার্চ। এর চোখের চারপাশে বড় কালো দাগ আছে। সে গাছে চড়তে পারদর্শী। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মাও সে তুংয়ের দেওয়া পান্ডার নামও ছিল পিং পিং।

অন্য পান্ডাটির নাম ফু শুয়াং। এর অর্থ দ্বিগুণ আশীর্বাদ। ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর জন্ম নেওয়া এই পান্ডার মাথায় সামান্য লোমের গোছা আছে। কপাল কিছুটা উঁচু এবং খুব সহজেই খাবার খুঁজে নিতে পারে। ফু জিয়া নামে এক পরিচর্যাকারী চীনা গণমাধ্যমকে বলেছেন, পিং পিং সাহসী ও শান্ত স্বভাবের। অন্যদিকে, ফু শুয়াং মধু খুব পছন্দ করে।

বিরল, তুলতুলে ও আদুরে হওয়ায় সারা বিশ্বেই পান্ডার জনপ্রিয়তা আছে। তাই এটিকে নিজেদের সাংস্কৃতিক ও জাতীয় প্রতীকে পরিণত করার চেষ্টা করছে চীনা সরকার। পান্ডা বিনিময়ের রীতিটি দীর্ঘদিন ধরে চীনা কূটনীতির একটি হাতিয়ার।

অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে কোনো জোটকে শক্তিশালী করা, সম্পর্কের দূরত্ব কমানো কিংবা নতুন অংশীদারদের কাছে টানতে দেশগুলোতে পান্ডা পাঠানো হয়েছে। তবে এগুলো স্থায়ীভাবে পাঠানো হয় না, ধার হিসেবে দেওয়া হয়।