মিতার এই আচরণের পেছনে ছিল একটি প্রশ্ন—প্রয়োজনে রাকিবের ওপর নির্ভর করা যাবে তো? মিতা সরাসরি প্রশ্নটি না করে সঙ্গীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। সম্পর্কের মনস্তত্ত্বে এ ধরনের আচরণকে সঙ্গীকে পরীক্ষা করার প্রবণতা হিসেবে দেখা হয়।

কেন কাছের মানুষকে আমরা পরীক্ষা করিসম্পর্কে একজন মানুষ অন্যজনকে নানা উপায়ে পরীক্ষা করতে পারেন। কখনো ইঙ্গিতে নিজের প্রয়োজন বোঝানোর চেষ্টা করেন, কখনো অভিমান করে কথা বলা বন্ধ রাখেন, আবার কখনো ছোটখাটো বিষয়ে বিরোধ তৈরি করে দেখতে চান, অন্যজন সম্পর্কটি ধরে রাখতে কতটা আগ্রহী।

এ ধরনের ব্যবহারের পেছনে সাধারণত দুটি প্রশ্ন কাজ করে—এই সম্পর্কে আমি কি নিরাপদ? আমার কি সঙ্গীর কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব আছে?

সম্পর্কে নিজের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাওয়া স্বাভাবিক। সঙ্গীর যত্ন, মনোযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে অনেকে সেই নিশ্চয়তা খুঁজে পান। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন নিজের প্রয়োজন সরাসরি না জানিয়ে অন্যজনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ব্যবহার প্রত্যাশা করা হয়।

যেমন মিতা আশা করেছিলেন রাকিব নিজ থেকেই ঘরের কাজে সাহায্য করবেন। কিন্তু রাকিব করেননি। মিতা এটিকে তাঁর প্রতি উদাসীনতা হিসেবে ধরে নিতে পারেন। কিন্তু রাকিব হয়তো বুঝতেই পারেননি যে স্ত্রীর সাহায্য প্রয়োজন। আবার রাকিব এটাও ভেবে থাকতে পারেন, মিতা নিজের মতো কাজ সামলে নেবেন।

অর্থাৎ প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার অর্থ সব সময় ভালোবাসা বা যত্নের অভাব নয়। কখনো কখনো দুজনের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতিও এর কারণ হতে পারে।