যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের সহযোগিতায় ও যশোর বন্ধুসভার উদ্যোগে ২৫ অক্টোবর বিকেলে সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের একটি খেজুরবাগানে এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘একটি ভালো কাজ’-এর অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়। এতে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনকারী ১৫ জন গাছি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে গাছিদের সম্মাননা হিসেবে গলায় উত্তরীয় ও মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিরাপদ রস সংগ্রহের জন্য খেজুরগাছের হাঁড়িতে ব্যবহারের জন্য তাঁদের হাতে বিশেষ জাল তুলে দেওয়া হয়, যাতে পাখি বা পোকামাকড় রস নষ্ট করতে না পারে।
যশোর বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।গাছিদের ভেজালমুক্ত গুড় উৎপাদনের শপথবাক্য পাঠ করান বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও যশোর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোফাজ্জেল হোসেন।
শপথ অনুষ্ঠানে মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, খেজুরের গুড় যশোরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী জিআই পণ্য। ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। যশোরের এ সুনাম ধরে রাখতে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনে কোনো ধরনের ভেজাল, চিনি বা রাসায়নিক মেশানো যাবে না। শুধু শপথ নিলেই হবে না, রস না থাকলে গুড় উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে খেজুরগাছের বনায়ন বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, যশোর অঞ্চলে এ প্রকল্পের আওতায় ১২০টি গাছসংবলিত ৩১টি খেজুরবাগান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাগান উদ্যোক্তাদের সার, চারা, কারিগরি সহায়তাসহ সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছর এ প্রকল্পের আওতায় খেজুরের রস ও গুড়ের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
যশোর বন্ধুসভার একটি ভালো কাজ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যশোর বন্ধুসভার অর্থ সম্পাদক রিফাত আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন যশোর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসরিন শিরীন ও খেজুরবাগানের উদ্যোক্তা মামুন কায়সার।