মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬Loginপ্রচ্ছদআয়োজনদূর পরবাসসফলতাপাঠকসংস্কৃতিভ্রমণছবি আয়োজনময়মনসিংহ ২০৫০: পুরোনো শহর নয়, গড়ে উঠুক ভবিষ্যতের নগরলেখা: মাহবুব আলমপ্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬: ৪৩ ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের ময়মনসিংহ শহর। সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় ছবিটি তুলেছেন উবায়দুল হক।‘হাওর, জঙ্গল, মহিষের শিং—এই তিনে মৈমিনসিং; লোকমুখে এখনো প্রচলিত একটি প্রবাদ। ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটিশ আমলে ময়মনসিংহ ছিল বিশাল এক জেলা, যার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বৈশিষ্ট্য বোঝাতেই প্রবাদটি তৈরি হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় তা আর অবশিষ্ট নেই। তবে সেই ময়মনসিংহ এখন আর কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা শহর নয়; এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, প্রশাসন, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
ব্রহ্মপুত্রের তীরে গড়ে ওঠা এ নগরীর রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়। কিন্তু দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত আবাসন, যানজট, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ, খাল-জলাশয় সংকোচন ও নগর অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ ময়মনসিংহের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার দাবি জানাচ্ছে।
এ বাস্তবতায় চলতি বছরে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ। আইনটির মূল উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে—ময়মনসিংহ ও এর সন্নিহিত এলাকাকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পিত আধুনিক নগরে রূপ দেওয়া। এ ছাড়া ভূপ্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ, দুর্যোগসহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনের বিকাশ এবং নাগরিকের উন্নত জীবন নিশ্চিত করা।
এখন প্রশ্ন হলো, নতুন এ কর্তৃপক্ষ কি শুধু ভবনের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হবে, নাকি ময়মনসিংহের আগামী ২০-৩০ বছরের নগর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রধান পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে? উত্তরটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, ময়মনসিংহের বর্তমান সংকট মূলত বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্পের সংকট নয়; এটি নগর–পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, আবাসন, পানিনিষ্কাশন, পরিবেশ ও অর্থনীতিকে একসঙ্গে দেখার সংকট।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের জনসংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭২২ এবং জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৬ হাজার ৩১৫ জন। এ সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়; এটি নগর–পরিকল্পনার জন্য একটি সতর্কবার্তা। কারণ, সিটি করপোরেশনের জনসংখ্যা আগামী বছরগুলোয় ক্রমবর্ধমান হারে আরও বাড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আবাসিক চাহিদার কারণে আশপাশের উপজেলা ও গ্রামাঞ্চল থেকেও মানুষ নগরমুখী হচ্ছে। ফলে নগরের সীমানা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এ সম্প্রসারণ কি পরিকল্পিত হবে, নাকি রাস্তার পাশে, খালের ধারে, কৃষিজমির ওপরে ও নিচু জমিতে বিচ্ছিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠবে? ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এখানেই।
২০২৬ সালের আইনে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (মউক) ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টেকসই নগরায়ন, ভূমি জরিপ ও সমীক্ষা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, দুর্যোগ সহনশীল নগর–পরিকল্পনা এবং পরিবহন অবকাঠামোর সমন্বিত পরিকল্পনার কথাও আইনে বলা হয়েছে।