বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬DonateLoginপ্রচ্ছদকার্যক্রমছবিভিডিওট্রাস্ট সম্পর্কেAbout Prothom Alo TrustContactUpdatesপ্রথম আলো অদম্য মেধাবী তহবিলসাফল্য ‘মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে কী হবে?’—সমাজের এই প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে মমিনা আজ বিসিএস ক্যাডার প্রথম আলো ট্রাস্টের নিয়মিত আয়োজন যাঁরা দেখেন, তাঁরা জানেন আমরা প্রতি মাসে একজন অদম্য মেধাবীর সংগ্রামের গল্প শুনি। আর্থিক, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমাদের এই অদম্যরা কীভাবে স্বপ্ন পূরণ করেন, তা থেকে আমরা কঠিন সময়েও ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাই। আজকে আমরা গল্প শুনব ৪৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত রংপুর জেলার বদরগঞ্জের অদম্য মেধাবী মোছা. মমিনা খাতুনের। তিনি ব্র্যাক ব্যাংক

ভালো আছি। আপনাকে প্রথমেই অভিনন্দন! বিসিএস যুদ্ধ জয়ের পর আপনার ছোটবেলার গল্পটা শুনতে চাই। কেমন ছিল আপনার ছোটবেলা?

মোছা. মমিনা খাতুন: আমি একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পড়াশোনা শেষ করেছি। সাধারণত আমার গ্রাম বা আশপাশ থেকে মেয়ে তো দূরের কথা, ছেলেদের মধ্যেও গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার মতো কেউ ছিল না। ক্লাস এইটে যখন ক্লাসে সেকেন্ড হলাম, তখন মনে হলো চেষ্টা করলে আরও ভালো করা সম্ভব এবং নাইনে প্রথম হই। তখন আমাদের এলাকায় ভালো পড়াশোনার গণ্ডি বলতে কেবল ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটাই জানতাম, কারণ এর বাইরে ইউনিভার্সিটি বা বুয়েট সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না। তাই ছোটবেলায় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নই দেখতাম।

গ্রামের বাড়ি থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং শহরে এসে পড়াশোনা করা—এই যাত্রায় পারিবারিক ও সামাজিক বাধা কেমন ছিল?

মোছা. মমিনা খাতুন: আমার বাবা-মা সরাসরি বাধা না দিলেও পারিপার্শ্বিক চাপ ছিল প্রচুর। ভালো রেজাল্ট করার পরেও কথা শুনতে হয়েছে—‘মেয়ে পড়াশোনা করে কী করবে, অন্য বাড়িতে তো চলেই যাবে?’ প্রতিবেশি অন্যান্য আত্মীয়রাও বলত এসএসসির বেশি পড়াশোনার দরকার নেই, বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। এখনো সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, ছেলেদের পড়াশোনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, মেয়েদের ক্ষেত্রে সেই পিছিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থাকে। তবে আমার বাবা আমাকে নিয়ে কিছুটা সন্দিহান হলেও আমার দেওয়া যুক্তিতে ভরসা রেখেছিলেন।

এরপর প্রথম আলোর শিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং শহরের কলেজে এসে পড়াশোনার দিনগুলো কেমন ছিল?