মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬Loginগল্পকবিতাকমিকসসাক্ষাৎকারখেলাফিচারবিনোদনজীবনযাপনচিঠিপত্রআরও খেলামেসির এই সাতটি গুণের কথা তুমি কি জানতেকিআ প্রতিবেদক আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫: ৫৯ লিওনেল মেসিছবি এআইলিওনেল মেসিকে আমরা গোলের সংখ্যায় চিনি। বাঁ পায়ের জাদু, বিশ্বকাপ ট্রফি, বার্সেলোনা অধ্যায়—এসব সবার জানা। কিন্তু মাঠের বাইরে যে মেসি, তার কথা খুব কম শোনা যায়। সেই ছেলেটির সাতটি গুণ এখানে।

রোজারিওতে মেসির বয়স যখন দশ-এগারো, ডাক্তার বলেন—শরীরে গ্রোথ হরমোন কম। উচ্চতা বাড়ছে না। চিকিৎসা মানে প্রতি রাতে পায়ে ইনজেকশন। এক রাত এক পা, পরের রাত অন্য পা। প্রথমে বাবা-মা দিতেন। পরে নিজেই নিতে শিখেছিলেন। খরচ এত বেশি যে পরিবারের পক্ষে চালানো কঠিন। তাঁর তখনকার ক্লাব নিউয়েলসও খরচ দিতে পারেনি। তবু ছেলেটি খেলা ছাড়েনি। ছোট হয়েও বড় হওয়ার লড়াইটা সে মাঠের আগেই জিতেছিল।

লা মাসিয়ায় প্রথম দিকে সতীর্থরা ভেবেছিল, এই আর্জেন্টিনীয় ছেলেটি হয়তো কথাই বলতে পারে না। এত চুপ! স্প্যানিশও জানে না। পরে বোঝা গেল, লাজুক। অচেনা মানুষের সামনে গুটিয়ে থাকে। বন্ধু আর পরিবারের মধ্যে সে আলাদা—হাসিখুশি, মজার। মাঠে সে চিৎকার করে না। কাজটা করে। কিশোরদের জন্য এটা বড় শিক্ষা: জোরে কথা বলা আর সাহসী হওয়া এক জিনিস নয়।

বাবা হোর্হে কারখানায় বাড়তি সময় কাজ করতেন, যেন ছেলের ওষুধ চলে। মা সেলিয়াও কাজ করতেন। মেসি বারবার বলেছেন, বাবা না থাকলে তাঁর জীবনটা এমন হতো না। ট্রফি জিতেও সে প্রথমে পরিবারের দিকে তাকায়। বিখ্যাত হয়েও বাবা-মা, ভাইবোন আর তিন ছেলেকে সে জীবনের মাঝখানে রেখেছে। খ্যাতি এলেও শেকড় কাটেনি।

২০০৭ সালে সে লিও মেসি ফাউন্ডেশন করে। রোজারিওর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা, হাসপাতাল, যাতায়াত—এসবের খরচ সে বহন করে। ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূতও। একবার মরক্কোর সুফিয়ান নামের এক ছেলের সঙ্গে খেলেছিল, যার দুই পা ছিল না। পরের ম্যাচে প্রথম গোলটা তার নামে উৎসর্গ করে। ক্যামেরার সামনে বক্তৃতা কম। কাজটা বেশি।

পাঁচ বছর বয়সেই ম্যাচের আগে বুরুশ দিয়ে জুতো পরিষ্কার করত। গোড়ালিতে ব্যান্ডেজ বাঁধত। বড় হয়েও রুটিন ভাঙলে তার মন খারাপ হয়। জামাকাপড় গুছিয়ে রাখে। এলোমেলো পছন্দ করে না। প্রতিভা একা আসে না। তার পেছনে থাকে এই ছোট ছোট অভ্যাস—যেগুলো কেউ পোস্টারে ছাপে না।