সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। চলতি বছর এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির ঘটনা এটি।

এ নিয়ে চলতি মাসের ২২ দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের। এ বছর মোট মৃত্যু ১৯৫ জনের। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে বরিশালে ১৯০, চট্টগ্রামে ২৮৫, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৩৯১, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫৯, ঢাকা দক্ষিণে ১৯১, খুলনায় ৩১৬, ময়মনসিংহে ১০৫, রাজশাহীতে ১৬২, রংপুরে ৬৭ এবং সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৪৭৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯৯। মৃত্যু হয়েছে ১৯৫ জনের। জানুয়ারিতে মৃত্যু হয় দুজনের; ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ৯৮ জনে মারা গেছেন। আক্রান্তদের ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। ডেঙ্গুর বিস্তার এখন আর শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়। দেশের ৬৪ জেলাতে রোগী শনাক্ত হয়েছে। ঢাকার বাইরে বান্দরবান, বরিশাল বিভাগের সব জেলা, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, মাদারীপুর ও খুলনায় সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার কয়েকটি জেলায় রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ডেঙ্গুর বড় হটস্পট ছিল বরগুনা। এবার সেই জায়গায় উঠে এসেছে খুলনা। এরপর রয়েছে দিনাজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর। এসব এলাকার পাশাপাশি ময়মনসিংহ, পাবনা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতেও রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪০ হাজার ৪৬১ জন। মারা যান ১৬৭ জন। চলতি বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনায় রোগী বেড়েছে ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, সেপ্টেম্বরে চলতি বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। আগামী মাসে এটি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, ডেঙ্গুর দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত এডিস জরিপ, ওয়ার্ডভিত্তিক ঝুঁকির মানচিত্র, দক্ষ কীটতত্ত্ববিদ, আধুনিক গবেষণাগার, কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং স্বাধীন মূল্যায়ন প্রয়োজন।

ই-মেইল: [email protected], [email protected]